পূজা মাজী, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি:- শারদোৎসবের আগে যখন চাষিদের চোখে ভাসার কথা বাড়তি আয়ের স্বপ্ন, তখনই টানা বৃষ্টির দাপটে তা মাটিতে মিশে যাচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে নিরবচ্ছিন্ন বর্ষণে জলের তলায় চলে গেছে বিস্তীর্ণ ফুলের চাষের জমি। গাঁদা, রজনীগন্ধা, গোলাপ, জারবেরা থেকে শুরু করে চন্দ্রমল্লিকা প্রায় সব ধরনের ফুলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ফুলচাষিদের কপালে, পাশাপাশি বিপাকে পড়ছেন পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরো বিক্রেতারাও।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, নদিয়া ও পূর্ব মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ফুল চাষ হয়। সেই সব এলাকায় ইতিমধ্যেই মাঠজুড়ে জমে থাকা জলে গাছ পচে যাচ্ছে। ফুলের ডাঁটা নরম হয়ে যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে কলির আগেই ঝরে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্ষতি থেকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো কার্যত অসম্ভব। কারণ পুজোর আর হাতে সময় নেই।
পাইকারি বাজারে এখন থেকেই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ফুলের দামের উর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে গাঁদা ফুলের দাম প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকার মধ্যে থাকত, সেখানে এখনই তা ১০০ টাকা ছুঁইছুঁই। আর সামনে পুজো আসতে আসতে দাম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
ফুলচাষিদের বক্তব্য, এভাবে টানা বৃষ্টি চলতে থাকলে পুজোর সময়ে বাজারে ফুলের যোগান অনেকটাই কমে যাবে। সেই সঙ্গে খরচ বাড়বে বহুগুণে। কারণ গাছ বাঁচাতে ও নতুন করে চাষ করতে হলে সার, কীটনাশক, শ্রমিকের খরচ অনেক বেড়ে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের অভিযোগ, এমন পরিস্থিতিতে সরকারিভাবে সাহায্যের আশ্বাস মিললেও, বাস্তবে অনেক সময় সেই সহায়তা পৌঁছায় না।
অন্যদিকে, কলকাতা ও তার আশপাশের বাজারে ফুলের অকাল সংকট তৈরি হলে সরাসরি প্রভাব পড়বে দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো, এমনকি বিয়ে-সংবর্ধনার মতো বড় উৎসবেও। মণ্ডপসজ্জা থেকে দেবী অর্চনা—সব ক্ষেত্রেই ফুল অপরিহার্য। ফলে বাজারে চাহিদা যেমন থাকবে তুঙ্গে, তেমনি সরবরাহে টান পড়ায় সাধারণ মানুষকেও ফুল কিনতে গুনতে হবে বাড়তি টাকা।
সব মিলিয়ে, উৎসবের মরসুম ঘনিয়ে এলেও, ফুলচাষিদের চোখে এখন শুধুই দুশ্চিন্তা। প্রকৃতির এই রোষে তাঁদের স্বপ্নের রঙিন ফুল যেন ফিকে হয়ে যাচ্ছে।

