সুরোজ ছড়ি,নিজস্ব সংবাদদাতা:নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় তাঁর সরকারি বাসভবন ছাড়েননি। এই পরিস্থিতিতে বাড়িটি দ্রুত খালি করার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় আবাসন এবং নগরোন্নয়ন মন্ত্রককে চিঠি পাঠিয়েছে। প্রধান বিচারপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে সরকারি বাসভবন ছাড়ার অনুরোধ করে সুপ্রিম কোর্টের কেন্দ্রকে চিঠি দেওয়ার ঘটনা বিরল বলেই মনে করছেন অনেকে।সুপ্রিম কোর্টের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বরে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি খন্নাকে চিঠি লিখে বিচারপতি চন্দ্রচূড় ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কৃষ্ণ মেনন মার্গের সরকারি বাসভবনে থাকার অনুমতি চেয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর জন্য তুঘলক রোডের ১৪ নম্বর বাংলোটি নির্ধারিত করা হলেও দিল্লির দূষণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে সেটিতে মেরামতির কাজ থমকে রয়েছে। আবাসন এবং নগরোন্নয়ন মন্ত্রক তখন প্রতি মাসে ৫,৪৩০ টাকা লাইসেন্স ফি দিয়ে তাঁকে সেখানে থাকার অনুমতি দিয়েছিল। তবে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও প্রাক্তন বিচারপতি চন্দ্রচূড় প্রধান বিচারপতি খন্নার কাছে ৩১ মে পর্যন্ত ওই বাংলোয় থাকার মৌখিক আর্জি জানান। সেই বর্ধিত সময়সীমাও ইতিমধ্যেই পেরিয়ে গেছে।সুপ্রিম কোর্টের রুল ৩বি অনুযায়ী, অবসরগ্রহণের পর কোনো বিচারপতি ‘টাইপ সেভেন’ পর্যায়ের বাংলোয় সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত থাকতে পারেন। কিন্তু বিচারপতি চন্দ্রচূড় বর্তমানে আরও উন্নত ‘টাইপ এইট’ বাংলোয় রয়েছেন। উপরন্তু, ছয় মাসের যে সময়সীমা ছিল, সেটিও অনেক আগেই অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে।প্রাক্তন বিচারপতি চন্দ্রচূড় দাবি করেছেন, তাঁর দুই কন্যা নানা রোগে আক্রান্ত। দিল্লি এমসে তাদের চিকিৎসার সুবিধার জন্যই তিনি এই বাংলোয় থাকছেন। বিষয়টি তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এবং আধিকারিকদেরও জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “সরকারের তরফে ভাড়ায় আমার থাকার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। কিন্তু বাড়িটিতে মেরামতির কাজ চলছে, কারণ সেটি দু’বছর বন্ধ ছিল। আমি সুপ্রিম কোর্টকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং স্পষ্ট বলে দিয়েছি যে, বাড়িটি বসবাসযোগ্য হলেই আমি তার পরের দিন সেখানে চলে যাব।”সাধারণত, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বা বিচারপতিদের সরকারি বাংলোয় থাকার মেয়াদ অনেক ক্ষেত্রেই বাড়ানো হয়। তবে কোনো সরকারি বাসভবন খালি করার জন্য খোদ সুপ্রিম কোর্টকে কেন্দ্রকে চিঠি লিখতে হচ্ছে— এমন ঘটনা ইতিহাসে খুব বেশি দেখা যায় না, যা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

