নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: রাত তখন প্রায় ৮টা। চারদিকে অন্ধকার। ঠিক সেই সময় উলুবেড়িয়া মহকুমার কাঁকটিয়া সাঁতপুকুর এলাকায় তৈরি হলো এক টানটান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় দেখা মিলল চারটি বিরল প্রজাতির ‘ তিল কাছিম ‘ এর। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ফের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করল হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের সাথী সংগঠন ‘ডট ফাউন্ডেশন’।
৩১ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার রাতে কাঁকটিয়া সাঁতপুকুর শ্মশানকালী পূজা কমিটির সদস্য বিশ্বজিৎ দাস বৈরাগী প্রথম এই কাছিমগুলিকে দেখতে পান। পাচারের ভয় বা প্রাণহানির আশঙ্কা করে তিনি তৎক্ষণাৎ সচেতন নাগরিকের পরিচয় দেন। তিনি খবর দেন ডট ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর দীপঙ্কর পোড়েল – কে। খবর পাওয়া মাত্রই ঝাঁপিয়ে পড়লেন উদ্ধারকারীরা ।
খবর পাওয়ামাত্রই দীপঙ্কর পোড়েল যোগাযোগ করেন সংগঠনের দক্ষ বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী কুন্তল মুখার্জির সাথে। কালবিলম্ব না করে কুন্তল মুখার্জী এবং সংগঠনের সদস্য ডক্টর রিমা মুখার্জি ও দীপঙ্কর পোড়েল ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রাতের অন্ধকারে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে অত্যন্ত রোমহর্ষকভাবে কাছিম ৪টিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে কাছিমগুলি নিরাপদ স্থানে রয়েছে এবং সেগুলির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হয় তারপর সেগুলিকে প্রকৃতিতে পুনরায় মুক্ত করে দেওয়া হয়। ডট ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিশ্বজিৎ দাস বৈরাগী,কল্লোল সেন , অনুপম সহ এবং শ্মশানকালী পূজা কমিটির সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানানো হয়। সংগঠনের সদস্যরা বলেন, ” দিন হোক বা রাত, বন্যপ্রাণ বিপদে পড়লে ডট ফাউন্ডেশন সর্বদা সজাগ রয়েছে। সাধারণ মানুষের এই সচেতনতাই আগামী দিনে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের বাঁচাতে বড় হাতিয়ার হবে “।
এই রোমহর্ষক উদ্ধারকার্যকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং পরিবেশপ্রেমীদের মহলে সংগঠনটির তৎপরতা প্রশংসিত হয়েছে।

