সুরোজ ছড়ি, হাওড়া:পূর্ব বর্ধমানের রাজুয়া গ্রামে বোমা বিস্ফোরণ মামলায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (NIA) হস্তক্ষেপ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন যুব তৃণমূলের জেলা নেতা শুভেন্দু দাস। আর তাতেই তৈরি হয় রাজনৈতিক বিতর্ক। বুধবার দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করে।
শুভেন্দু দাস পেশায় একজন আইনজীবী এবং যুব তৃণমূলের পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। সম্প্রতি রাজুয়া গ্রামে বোমা বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যু ও বেশ কয়েকজন আহত হন। শুভেন্দুর দাবি, ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ অপরাধ নয়, এর পিছনে বড় ধরনের চক্রান্ত থাকতে পারে। এলাকার বিধায়ক নিজেই দাবি করেছেন, তাঁর উপর হামলার পরিকল্পনা ছিল। তাই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এই মন্তব্যেই দলের অস্বস্তি বাড়ে। কাটোয়ার বিধায়ক ও জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, শুভেন্দু যা করেছেন, তা দলের নীতির পরিপন্থী। এরপর দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। যদিও রবীন্দ্রনাথবাবুর দাবি, পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করছে, তাই এনআইএ তদন্ত চাওয়ার প্রয়োজন ছিল না।
এদিকে, পুলিশ ওই মামলার মূল অভিযুক্ত তুফান চৌধুরীর বাড়ি থেকে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও প্রায় দু’কেজি বোমা তৈরির মশলা উদ্ধার করেছে। আদালত তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে।
এই ঘটনার জেরে একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবি উঠছে, তেমনই দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় তৃণমূলের কড়া অবস্থানও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

