পায়েল পাখিরা, সংবাদদাতা, হাওড়া:– শ্রাবণ মাস হিন্দু ধর্মে এক পবিত্র সময়, যা শিবভক্তির জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসজুড়ে বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠে শ্রাবণী শিবির, যেখানে ভক্তরা গঙ্গাজল কাঁধে নিয়ে শিবলিঙ্গে জল ঢালেন, উপবাস পালন করেন এবং নামসংকীর্তনে মগ্ন থাকেন। ভক্তি, সংযম ও আত্মশুদ্ধির এই পথেই খোঁজা হয় মহাদেবের আশীর্বাদ।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই আধ্যাত্মিক পরিবেশে দেখা দিচ্ছে এক ভিন্ন মাত্রা। কিছু শিবিরে মাদক, গাঁজা, ভাঙ এমনকি মদ্যপানের প্রবণতা বাড়ছে। অনেকে বলছেন, এটি শিবের প্রসাদ বা ‘আনন্দের মাধ্যম’, যা নৈবেদ্যর অঙ্গ বা সাধনার সহায়ক। বাস্তবে এটি ধর্মের নামে নিজস্ব ভোগবিলাসকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।
শাস্ত্র বলে, শ্রাবণ মাস সংযম ও শুদ্ধতার সময়। এই মাসে আত্মনিয়ন্ত্রণ, উপবাস এবং পুণ্যকর্মই মুখ্য। কিন্তু নেশাজাত দ্রব্য ব্যবহার করে ‘ভক্তি’ দেখানো প্রকৃত অর্থে ধর্মের অপব্যবহার।
এই ধরনের আচরণ সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে—যেখানে ভক্তির সঙ্গে আসক্তির ফারাকটুকু ঘুচে যাচ্ছে। ধর্মীয় অনুভূতির আড়ালে যদি নৈতিক অবক্ষয় চলতে থাকে, তাহলে সেটি সমাজ ও সংস্কৃতির পক্ষেও ক্ষতিকর।
প্রকৃত ভক্তি মানে শুধুই আচার নয়, আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের চর্চা। তাই শ্রাবণী উৎসব হোক এমন এক উপলক্ষ, যেখানে ভক্তি, ভ্রাতৃত্ব এবং শুদ্ধাচার মিলে গড়ে উঠবে এক সুন্দর সমাজ

