সুরোজ ছড়ি,নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতাঃ-উত্তরপ্রদেশের রাজা রঘুবংশী খুনের ঘটনায় প্রতিদিনই নতুন তথ্য বের হচ্ছে। রাজা নিখোঁজ হওয়ার ১৭ দিন পর তাঁর স্ত্রী সোনম গাজিপুরে আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশ জানায়, সোনমই এই খুনের মূল অভিযুক্ত। কিন্তু সোনম একেবারেই অন্যরকম দাবি করেছেন।সোনম বলেন, তাঁরা মধুচন্দ্রিমার জন্য মেঘালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে দুষ্কৃতীরা তাঁর গয়না ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। রাজা তাঁকে বাঁচাতে গেলে প্রাণ হারান। সোনম জানান, তিনি অজ্ঞান হয়ে যান এবং পরে কীভাবে গাজিপুরে ফিরলেন, তা তাঁর জানা নেই।এই গল্প তিনি ধাবার মালিক সাহিলকে শুনিয়েছিলেন, যেটা একেবারে সিনেমার মতো মনে হয়েছে অনেকের কাছে। তবে পুলিশ বলছে, এই গল্প সাজানো। তাদের দাবি, সোনম তার প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা এবং তিনজন ভাড়াটে খুনির সাহায্যে রাজার খুনের ছক করেছিলেন।
পুলিশ আরও জানায়, ১১ মে ইন্দোরে তাঁদের বিয়ে হয় এবং ২০ মে তাঁরা মধুচন্দ্রিমার জন্য মেঘালয় যান। এই সফরের সব ব্যবস্থা সোনম নিজেই করেছিলেন। ২৩ মে তাঁরা নিখোঁজ হন, আর ২ জুন রাজার মৃতদেহ পাওয়া যায় চেরাপুঞ্জির কাছে একটি খাদে। তাঁর মাথায় গভীর আঘাত ছিল। পোস্টমর্টেমে মৃত্যুর কারণ হিসেবে খুন নিশ্চিত হয়।পুলিশ সোনমকে নজরে রাখছিল সাইবার নজরদারি ও সিসিটিভির সাহায্যে। তিনি গাজিপুরে তাঁর ভাইকে ফোন করতেই পুলিশ তাঁর অবস্থান জেনে যায়। মেঘালয়ের পুলিশ জানায়, সোনম ও তার প্রেমিক রাজ মিলে আরও তিনজন ভাড়াটে খুনি—আকাশ, বিশাল ও আনন্দ—নিয়ে এই খুনের পরিকল্পনা করে। যদিও তাঁরা ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে সাজাতে চেয়েছিল, একজন পর্যটক গাইডের বয়ানে আসল সত্য ফাঁস হয়ে যায়।

