নিজস্ব সংবাদদাতা, আর এন বি :- রাজ্যে আপাতত থমকে গেল এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে ভর্তি প্রক্রিয়া। আদালতের নির্দেশে স্থগিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চলতি বছরের নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী। ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তাঁদের ভবিষ্যৎ কার্যত ঝুলে রইল। চিকিৎসা শিক্ষায় ভর্তির এই জটিল পরিস্থিতি ঘিরে স্বভাবতই ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক এবং পরীক্ষার্থীরা।
অনেকেই বলছেন, সারা বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হলেও এখন ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢেকে গেল। শিক্ষামহলের একাংশের দাবি, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা রাজ্যের বাইরে অন্যত্র ভর্তি হওয়ার পথ খুঁজবেন, ফলে রাজ্যের চিকিৎসা শিক্ষায় ক্ষতি হতে পারে।
সূত্রের খবর, আইনি জটিলতার কারণে এই ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি না প্রকাশ পাওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশিকাই বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
স্বাস্থ্য ভবন জানিয়ে দিল, এমডিএস এবং বিডিএসে ভর্তি প্রক্রিয়া অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে। এমবিবিএস-র ভর্তি প্রক্রিয়াতেও কাউন্সিলিং অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দিয়েছে রাজ্য। স্বাস্থ্য ভবনের এই নোটিশের তীব্র বিরোধিতা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি নিজের বার্তায় লেখেন, ‘জরুরি নোটিশের নামে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কোনও উপযুক্ত কারণ ছাড়াই WB NEET UG মেডিকেল ডেন্টাল কাউন্সেলিং এবং ভর্তি প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে।
রাজ্যের মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।’এদিনই সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ এবং জয়েন্ট ফল না প্রকাশ করার ইস্যুতে রাজ্যকে বিঁধেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বলেছেন, এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবসা চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যত সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়বে, তত মমতার ঘনিষ্ঠদের প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়বে, ব্যবসা ফুলেফেঁপে উঠবে।
এই আবহে নিট উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে চলেছে। এই বিজ্ঞপ্তির ফলে এমবিবিএস-এ প্রথম বর্ষের কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া আটকে গেল এবং ডেন্টালের ভর্তির প্রক্রিয়াও আপাতত স্থগিত। কতদিন এই ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে তাও বলা হয়নি। ফলত, বাড়ছে উদ্বেগ। এই নোটিশ প্রকাশ পাওযার পর থেকেই প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে ছাত্র সংগঠনের রাজ্য মেডিকেল ইউনিট।
এখন সকলের নজর আদালতের পরবর্তী নির্দেশ এবং রাজ্য সরকারের পদক্ষেপের দিকে। চিকিৎসা পড়ুয়াদের দাবি, অনিশ্চয়তার এই অবসান ঘটিয়ে দ্রুত ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করা হোক।

