পূজা মাজী,নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি:- রাজ্যের অন্যতম প্রিমিয়ার চক্ষু চিকিৎসাকেন্দ্র রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অফ অপথালমোলজি তে টানা দেড় মাস ধরে অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা। চক্ষু সমস্যার কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত রোগী প্রতিদিন ভিড় করছেন এই হাসপাতালে। কিন্তু সার্জারি না হওয়ায় তাঁদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পালা যেন শেষই হচ্ছে না।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, মূলত অপারেশন থিয়েটারের অত্যাবশ্যক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের সমস্যা এবং টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে এতদিন অস্ত্রোপচার বন্ধ রাখা হয়েছিল। এ ছাড়া কিছু ওষুধ ও ইনস্ট্রুমেন্টের জোগান নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এর ফলে সাধারণ ছানি থেকে শুরু করে জটিল চক্ষু অস্ত্রোপচার সবকিছুই কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়।
প্রতিদিন গড়ে ৫০-৬০ জন রোগীর অপারেশনের লিস্ট তৈরি হলেও, সেই সার্জারি সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রোগীর সংখ্যা বেড়ে গিয়ে কয়েকশোতে পৌঁছেছে। অনেকে কয়েক মাস আগে থেকে তারিখ পেয়েছিলেন, কিন্তু নির্ধারিত দিনে এসে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক রোগী চোখের অবস্থা খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় মানসিক চাপে ভুগছেন।
হাসপাতালে আসা এক রোগীর পরিবারের অভিযোগ “আমার বাবার ছানির অপারেশনের তারিখ ছিল জুলাই মাসে। দেড় মাস ধরে শুধু ঘুরছি, অথচ এখনও কোনো দিন ঠিক করতে পারল না হাসপাতাল। বাইরে প্রাইভেট হাসপাতালে গেলে খরচ অনেক বেশি। আমরা সেই সামর্থ্য রাখি না।”
চিকিৎসক মহলের একাংশ জানিয়েছেন, আরআইও রাজ্যের দরিদ্র মানুষের অন্যতম ভরসার জায়গা। সেখানে দীর্ঘদিন অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকা মানে সাধারণ মানুষের চোখের চিকিৎসার বড় সমস্যা তৈরি হওয়া। একইসঙ্গে এখানে প্রায়ই দূরদূরান্ত থেকে রোগীরা আসেন, তাঁদের উপরও দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। নতুন যন্ত্রপাতি কেনা ও মেরামতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই আবার অপারেশন শুরু হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, এতদিন ধরে কেন সমাধান করা গেল না? রোগীরা যে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, তার দায় কে নেবে? জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি আগেই এড়ানো যেত, যদি যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ ও জোগান ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করা হতো।
ফলে, দেড় মাস ধরে বন্ধ থাকা অস্ত্রোপচার কেবল চিকিৎসা ব্যবস্থার ত্রুটিই প্রকাশ করছে না, বরং চোখের আলো ফেরানোর আশায় হাসপাতালে ভিড় করা শত শত রোগীর চোখে আরও অন্ধকার নামিয়ে আনছে।

