মিতা জানা, নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি : প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, শনিবার সকালে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে হাজির হন। সাদা পাঞ্জাবি, পায়জামা ও সাদা জুতো পরে সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ তিনি আদালতে পৌঁছন। আজ তাঁর জামিনের শুনানি হয়।
ইতিমধ্যেই এই মামলায় চন্দ্রনাথ সিনহার বিরুদ্ধে পঞ্চম সম্পূরক চার্জশিট জমা দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আদালতে ইডির আইনজীবী জানান, তদন্তে প্রমাণ হিসেবে ৪১ লক্ষ টাকা নগদ, একাধিক নথি ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। চন্দ্রনাথ এই টাকার উৎস হিসেবে কৃষিকাজ ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসার কথা বললেও, সে সংক্রান্ত কোনও উপযুক্ত নথিপত্র পেশ করতে পারেননি।
ইডি জানায়, চন্দ্রনাথের আয়কর নথি ও ব্যাঙ্ক বিবরণী খতিয়ে দেখা হয়েছে। সেখানে আয় ও সম্পত্তির মধ্যে বিশাল ফারাক ধরা পড়েছে। এমনকি জমি সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হলেও তিনি সময়মতো তা জমা দেননি। চার্জশিট জমা পড়ার পরেই তিনি নথি পেশ করেন।
ইডির দাবি, চন্দ্রনাথ সিনহা ১৫৯ জন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে গড়ে ৮ লক্ষ টাকা করে ঘুষ নিয়েছিলেন, যা মিলে দাঁড়ায় প্রায় ১২.৭২ কোটি টাকা। এত টাকা কোথায় গেল, তার সঠিক উত্তর এখনও মেলেনি বলে জানায় তদন্তকারী সংস্থা। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কিংবা স্থাবর সম্পত্তির মাধ্যমে ওই অর্থের কোনও হদিস পাওয়া যায়নি।
এই মামলায় বহিষ্কৃত তৃণমূল যুবনেতা কুন্তল ঘোষের জবানবন্দি থেকেই চন্দ্রনাথ সিনহার নাম উঠে আসে। তার ভিত্তিতেই ইডির তদন্তের গতি বাড়ে। গত ৬ সেপ্টেম্বর চন্দ্রনাথ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এবং পরে অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্তি পান।

