নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি:নদীয়ার শান্তিপুরে প্রকাশ্যে আধার কার্ড ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি পোড়ানোর অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।শান্তিপুরের হাট খোলা পাড়ায় বস্তাবন্দী অবস্থায় একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয়দের দাবি,একটি বস্তায় ভরে রাখা বহু কাগজ আগুনে পোড়ানো হচ্ছিল। সন্দেহ হওয়ায় ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দাবি করেন,সেগুলি নাকি সাধারণ কাগজ,কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি নয়।কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগ, বস্তার ভিতরে আধার কার্ড, ব্যাংক স্টেটমেন্ট সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
কারণ জানতে চাওয়া হলে ওই ব্যক্তি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।এরপরই বিষয়টি নিয়ে আরও বেশি সন্দেহ দানা বাঁধে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।চলতি বছরে শান্তিপুর এলাকায় একাধিকবার এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে আধার কার্ড, ব্যাংকের কাগজপত্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি একইভাবে পোড়ানো হয়েছে। এমনকি প্রমাণ হিসেবে পোস্ট অফিসে এখনও আধার কার্ড-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট পড়ে থাকার অভিযোগও উঠেছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। এলাকাবাসীর দাবি,এর আগেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল।তা সত্ত্বেও কেন প্রশাসন কোনও কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি,সেই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।
বর্তমানে এসআইআর প্রক্রিয়া চলার আবহে এই ঘটনা আরও বেশি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় গুরুত্বপূর্ণ নথি ধ্বংসের চেষ্টা করা হচ্ছে কি না,তথ্য গোপনের কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে কি না,এইসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।
কার বা কাদের নির্দেশে এই গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পোড়ানো হচ্ছে,এবং এর পেছনে কোনও সংগঠিত চক্র কাজ করছে কি না,সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা।এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করা হোক এবং কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এই ঘটনাকে ঘিরে শান্তিপুর জুড়ে এখন আতঙ্ক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।প্রশাসনের তরফে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বিষয়টি আরও বড় আকার নিতে পারে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।

