নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি : ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের উৎসবের সাজো সাজো রব।সমস্ত রাজনৈতিক দল গুলি প্রচারে ব্যস্ত। রাজনৈতিক দলগুলি নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করছে। গ্ৰামীণ হাওড়া জেলার পাঁচলা বিধান সভার অন্তর্গত একটি অ – রাজনৈতিক সংগঠন ‘ সারা ভারত জরি শিল্পী কল্যাণ সমিতি ‘ জরি শিল্পীদের উন্নয়নে নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ প্রকাশ করল।যা অতি বাস্তোবোচিত ও সমস্যা সঙ্কুল বিষয়। গ্ৰামীণ হাওড়া জেলার পাঁচলা বিধান সভার গাববেড়িয়া চাইল্ডহুড কে জি স্কুল – এ সারা ভারত জরি শিল্পী কল্যাণ সমিতি নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ করলো। নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ উপলক্ষে সারা ভারত জরি শিল্পী কল্যাণ সমিতি – র কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক মুজিবুর রহমান মল্লিক বলেন, ” কেহ কথা রাখেনি “! তিনি ক্ষোভের সঙ্গে শ্লোগান দিয়ে বলেন, ” বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত ক্ষোভ , দিকে দিকে হানো বিক্ষোভ! তিনি বলেন, ” জরি শিল্পীরা সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষ,দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই তাদের জন্য কোনো ও কল্যাণমূলক আইন প্রণয়ন কেন্দ্র কি রাজ্য কোনো ও সরকারই গ্ৰহণ করেন নি। নেই কোনো ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প। এই জরি শিল্পীগোষ্ঠীদের নিয়ে নেই কোনো ও আলোচনা পর্যালোচনা।একের পর এক নির্বাচন আসে, নির্বাচন হয় , সরকার গঠন হয়। নির্বাচন এলেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির সাংসদ, মন্ত্রী, বিধায়ক, নেতা – নেত্রীরা ভুরি ভুরি প্রতিশ্রুতি দেন। সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জন্য চাপান উতর চলে।জরি শিল্পীরা আশার আলো দেখার জন্য সাংসদ, মন্ত্রী, বিধায়ক, নেতা – নেত্রীদের কথায় মুগ্ধ হয়ে যে যার মতো রাজনৈতিক দল কে ভোট দেয়। সরকার গঠনে সহায়তা করে।২০১১ সালে বিধান সভা নির্বাচনের প্রাক্কালে একটি রাজনৈতিক দলের সুপ্রিমো এবং সাংসদ, মন্ত্রী, বিধায়ক ,নেতা – নেত্রীদের কথা বিশ্বাস করে ভোট দিয়ে সেই দলকে রাজ্যের ক্ষমতায় আসীন করে। এলাকার প্রতিনিধিকে ভোট দিয়ে বিধান সভায় পাঠান। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এর সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জরি শিল্পীদের উন্নয়নের জন্য ২০১২ সালের ৪ ঠা ফেব্রুয়ারি গ্ৰামীণ হাওড়া জেলার ধূলাগোড়ে রাজ্যের একমাত্র ” জরি হাব ” উদ্বোধন করলেও তা সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত হয় নি। অন্য দিকে কেন্দ্রের শাসক দল ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বেতাই – জয়ন্তী এ্যাথলেটিক্স ফুটবল মাঠের জনসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত সাহ এসে বলেছিলেন,কেন্দ্রে যদি এন ডি এ সরকার হয়, তাহলে জরি শিল্প কে হাওড়া জেলার মুখ করা হবে।জরি শিল্পীদের উন্নয়নে নানান পরিকল্পনা গ্ৰহণ করে তা বাস্তবায়ন করা হবে। এই জরি হাব কে আধুনিকরণ করে নতুন করে পথ চলা শুরু হবে।জরি শিল্পীদের সমস্যার – সমাধান হবে। আর্থিক সমস্যার নিরসন হবে।জরি শিল্পীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন সার্থক হবে ” । কিন্তু প্রতিশ্রুতিই সার। কাজের কাজ কিছুই হয় নি।জরি শিল্পীদের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেছে। বিগত দিনে ও কংগ্রেস,বাম, বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেস সরকার কেহই জরি শিল্পীদের উন্নয়নের জন্য কোনো ও পদক্ষেপ গ্ৰহণ করে নি। অথচ হাওড়া জেলার এই বঞ্চিত জরি শিল্পীদের সংখ্যা প্রায় ছয় লক্ষ, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় পনেরো লক্ষ এবং সারা দেশে প্রায় দু ‘ কোটি মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত। এবারের বিধান সভা নির্বাচনের প্রাক্কালে আমরা সরকারের কাছে আমাদের দশ দফা দাবি জানাচ্ছি।দাবি গুলি হল, ১/ রাজ্যে শ্রম দপ্তরের অধীনে ‘ জরি শিল্পী কল্যাণ বোর্ড ‘ গঠন করতে হবে, ২/ সারা দেশে জরি শিল্পী কল্যাণ আইন প্রণয়ন করতে হবে, ৩/ রাজ্যের রাজধানী, জেলা শহর ও মহকুমা শহর গুলিতে জরি শিল্পী বাজার বা কারিগর হাট তৈরি করতে হবে, ৪/ ধূলাগড়ের জরিহাবকে আমলাতান্ত্রিক ফাঁস থেকে বের করে, সার্বজনীন ভাবে বাস্তবায়িত করতে হবে, ৫/ অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য ‘ বাংলা সামাজিক সুরক্ষা যোজনায় ‘ নাম নথিভুক্ত করার জন্য সরকারি উদ্যোগ গ্ৰহণ করতে হবে এবং ‘ বাংলার সামাজিক সুরক্ষা যোজনা ‘ পোর্টালটি সার্বজনীন করতে হবে, ৬/ সরকারী উদ্যোগে রেজিস্ট্রিকৃত জরি সমবায় সমিতি গুলিকে সচল করতে হবে, ৭/ বয়স্ক জরি শিল্পীদের পেনশনের ব্যবস্থা করতে হবে, ৮/ জরি শিল্পীদের সহজ শর্তে ব্যাঙ্ক ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে,৯/ জরি শিল্প -কে সংরক্ষণের জন্য সরকারী উদ্যোগে ‘ জরি শিল্পকলা সংগ্ৰহশালা ‘ তৈরি করতে হবে, ১০/পরিযায়ী জরি শিল্পীদের জন্য সরকারী উদ্যোগে ক্যাম্প করে নাম নথিভুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার যদি আমাদের দাবি গুলিকে মান্যতা না দেয় , তাদের স্মরণে রাখতে হবে জরি শিল্পীরা যদি জোটবদ্ধ হয়, তাহলে বিভিন্ন নির্বাচনে অনেক গ্ৰাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ, বিধান সভা, লোকসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে। বিশেষ করে উদয়নারায়ণপুর, আমতা,বাগনান, উলুবেড়িয়া পূর্ব, উলুবেড়িয়া উত্তর, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ, শ্যামপুর,পাঁচলা, জগৎবল্লভপুর, সাঁকরাইল বিধান সভা গুলির রাজনৈতিক সমীকরণ আমূল বদলে যেতে পারে।অথবা জরি শিল্পীদের প্রতিনিধি নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারে।

