পায়েল পাখিরা,নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতাঃ– অবাক করা ঘটনা সামনে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলি ১ নম্বর ব্লকের নাদনঘাট থানার অন্তর্গত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। জানা গিয়েছে, সেখানে হিন্দু ও মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের জন্য মিড ডে মিল আলাদা হাঁড়িতে রান্না হয় এবং খাওয়ার ব্যবস্থাও আলাদা। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই জেলা প্রশাসনের তরফে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরীগঞ্জ – মনমোহনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, যেখানে মোট ৭২ জন পড়ুয়া রয়েছে। তার মধ্যে ৪৩ জন হিন্দু পরিবার থেকে এবং ২৯ জন মুসলিম পরিবার থেকে এসেছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা ৪ জন। মিড ডে মিলের রান্নার জন্য দুইটি পৃথক এলপিজি গ্যাস ওভেন ব্যবহার করা হয়। হিন্দু ও মুসলিম ছাত্রদের খাবার আলাদা রান্না করা হয়—হাঁড়ি, হাতা-খুন্তি থেকে শুরু করে গ্যাস পর্যন্ত সবই আলাদা। শুধু তাই নয়, খাবার পরিবেশন এবং খাওয়ার স্থানও নাকি আলাদা।
হিন্দু ছাত্রছাত্রীদের জন্য রান্নার দায়িত্বে রয়েছেন সোনালি মজুমদার, আর মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের জন্য রান্না করেন গেনো বিবি। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান কানন বর্মন জানিয়েছেন, মিড ডে মিল চালুর সময় থেকেই এই ব্যবস্থা চলে আসছে বিদ্যালয়ে। স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক তাপস ঘোষ, যিনি বছরখানেক আগে দায়িত্ব নিয়েছেন, বলেন, “এই রীতি বহু বছর ধরেই চলে আসছে। ফলে স্কুলের বাড়তি খরচ হয়—গ্যাসের ব্যবহার বেশি, জিনিসপত্র আলাদা রাখতে হয়। অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেও সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, কারণ তাঁরা সম্মত হননি।”
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি মহকুমাশাসককে তদন্ত করে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলেছেন। সরকারি স্কুলে ধর্মীয় বিভাজন কেন চলছে, তার জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে।
এই ঘটনা ফের একবার প্রাথমিক শিক্ষার পরিকাঠামো এবং সামাজিক মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।

