নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি : কয়েক বছর আগেও গ্রাম বাংলার পথঘাটে এক চেনা দৃশ্য চোখে পড়ত। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে সাইকেলে চেপে গ্রামের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ঘুরে বেড়াতেন একদল মানুষ। কাঁধে ঝোলানো লম্বা বাঁশের লাঠি, ঝুড়ি ভরতি তুলো, সঙ্গে নানা সরঞ্জাম আর অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী সেই বিশেষ যন্ত্র ধুনুরি। বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বিশেষ ছন্দে আওয়াজ তুলে জানিয়ে দিতেন তাঁদের আগমনের খবর। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে বাড়ির গৃহিণীরা বের করে আনতেন লেপ, গদি, বালিশ বা তোষক মেরামতের আশায়।
ধুনুরিদের হাতের কাজ ছিল নিখুঁত। পুরনো তুলো ঝেড়ে, পরিষ্কার করে নতুন প্রাণ দেওয়া হতো বিছানার সামগ্রীতে। এতে যেমন খরচ কমত, তেমনই থাকত আন্তরিকতার ছোঁয়া। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে মানুষের চাহিদা, পাল্টেছে জীবনের গতি। বাজার ভরে উঠেছে রেডিমেড গদি, লেপ আর ব্ল্যাঙ্কেটে। সহজলভ্যতা আর দ্রুততার কাছে হার মানছে হাতে তৈরির যত্ন আর শিল্প।
এর ফলেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে থাকা এই পরম্পরাগত পেশা আজ অস্তিত্বের সংকটে। নতুন প্রজন্ম আর এই কাজে আসতে চায় না, অভিজ্ঞ ধুনুরিরাও একে একে হারিয়ে যাচ্ছেন। তবু সব প্রতিকূলতার মাঝেও কিছু মানুষ আজও আঁকড়ে ধরে আছেন এই কাজকেই। তাঁদের বিশ্বাস, এই পেশা শুধু জীবিকার নয়, এ গ্রাম বাংলার স্মৃতি, সংস্কৃতি আর আত্মপরিচয়ের অংশ। যতদিন সেই বিশ্বাস বেঁচে থাকবে, ততদিন ধুনুরির আওয়াজ পুরোপুরি হারিয়ে যাবে না।

