মিতা জানা ,হাওড়া :-রাজ্যে ফের তৃণমূল কর্মী খুনে গ্রেফতার দলীয় নেতা। বুধবার রাতে মুর্শিদাবাদের ভরতপুরে কুপিয়ে খুন করা হয় তৃণমূল কর্মী ষষ্ঠী ঘোষকে। সেই ঘটনায় মিহির ঘোষ নামে এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর এই খুনের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ভরতপুরকে ভাঙড় করার কাজ শুরু করে দিলেন স্থানীয় বিধায়ক হুমায়ুন কবির?নিহতের পরিবার সূত্রে খবর , মিহির ঘোষের সঙ্গে ষষ্ঠী ঘোষের বিবাদ দীর্ঘদিনের। এলাকা দখল ছাড়াও পারিবারিক বিবাদও ছিল ২ জনের মধ্যে। বুধবার রাতে ট্রাক্টর ভাড়া দেওয়ার টাকা নিয়ে বাঁধের রাস্তা ধরে মোটর সাইকেলে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন ষষ্ঠীবাবু।ঠিক সেই সময় স্থানীয় আলু গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মৌসুমী ঘোষের স্বামী মিহির ঘোষসহ ৪ থেকে ৫ জন তাঁর রাস্তা আটক করে এবং ধারাল অস্ত্র দিয়ে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। খবর পেয়ে পরিবারের লোকেরা তাঁকে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এই ঘটনায় রাতেই মিহির ঘোষকে গ্রেফতার করেছে ভরতপুর থানার পুলিশ।
ষষ্ঠী ঘোষের পরিবারের দাবি, এর আগেও একাধিকবার ষষ্ঠীবাবুকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল।এই ঘটনায় কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, ষষ্ঠী ঘোষ এলাকার ডাকসাইটে নেতা। উনি সিপিএম, কংগ্রেস, তৃণমূল, সব দলই করেছেন। তোলাবাজির টাকা ভাগ নিয়ে বিবাদের জেরেই খুন হয়েছেন বলে মনে হয়।
এই ঘটনায় ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির বলেন, এটা ওদের পারিবারিক বিবাদ। এর মধ্যে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। ষষ্ঠী ঘোষকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। পুলিশ দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
দিন কয়েক আগেই জেলা তৃণমূল নেতৃত্বকে হুমকি দিয়ে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, ‘ভরতপুরকে ভাঙড় বানিয়ে দেব। আর সেটা কান্দি দিয়ে শুরু করব’। তাই এই খুনে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সেই কাজ শুরু করে দিলেন হুমায়ুন?

