পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:- শারদীয়া দুর্গোৎসব মানেই আনন্দ, ভক্তি ও আচার-অনুষ্ঠানের মিলনক্ষেত্র। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে পূজার ধরণ ও আয়োজনের পদ্ধতিও। এ বছরের কলকাতার ভবানীপুর ক্লাব তাদের মণ্ডপে এক অভিনব প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নিয়েছে, যা একদিকে যেমন সময়োপযোগী, তেমনই ভক্তদের জন্যও বয়ে এনেছে সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্য।
প্রতি বছরই লক্ষ লক্ষ মানুষ এই পূজা মণ্ডপে ভিড় করেন। এত মানুষের মধ্যে প্রণামী সংগ্রহ করা ও তা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সবসময়ই একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সেই সমস্যার সমাধান করতেই ক্লাব এবার ব্যবহার করেছে UPI স্ক্যানার—একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও ক্যাশলেস প্রণামী ব্যবস্থাপনা। মণ্ডপের সামনেই বসানো হয়েছে স্ক্যানার লাগানো বোর্ড। ভক্তরা চাইলে তাদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে UPI অ্যাপে গিয়ে QR কোড স্ক্যান করে খুব সহজেই ইচ্ছেমতো অঙ্কের প্রণামী প্রদান করতে পারছেন।
এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি দ্রুত, নিরাপদ এবং সম্পূর্ণভাবে নগদহীন। এতে একদিকে যেমন নোট জালিয়াতির সম্ভাবনা কমে, তেমনই অর্থের লেনদেনের স্বচ্ছতাও বজায় থাকে। এছাড়াও বয়স্ক কিংবা শারীরিকভাবে অক্ষম ভক্তদের জন্য এটি বিশেষভাবে সুবিধাজনক—তাদের আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে প্রণামী দিতে হচ্ছে না।
ভবানীপুর ক্লাবের এই পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা প্রমাণ করেছে যে, ঐতিহ্য ও আধুনিকতা পাশাপাশি চলতে পারে। প্রযুক্তির এমন সৃজনশীল প্রয়োগ একদিকে যেমন পূজার ব্যবস্থাপনাকে আরও সুসংগঠিত করে তুলেছে, তেমনই ভবিষ্যতের পথও দেখিয়ে দিয়েছে অন্য পূজা কমিটিগুলিকে।
এই ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ আমাদের বোঝায় যে প্রযুক্তি শুধুই অফিস বা ই-কমার্সের জন্য নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেও প্রভাব ফেলতে পারে ইতিবাচকভাবে। ভবানীপুর ক্লাবের এই অনন্য প্রয়াস নিঃসন্দেহে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা ভবিষ্যতের দুর্গাপূজা আয়োজনের রূপ পাল্টে দিতে পারে।

