সুইতা পাল, হাওড়া: আজ শনিবার জন্মাষ্টমী। দীঘার জগন্নাথ ধামে এই প্রথমবার জন্মাষ্টমী আয়োজন করা হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথিতে প্রভু জগন্নাথ দর্শনের সকাল থেকে ভক্তদের দল নেমেছে। সকাল ছটায় মন্দির খুলে দেওয়ার পর সাড়ে ছটা নাগাদ মঙ্গলা আরতি হয়। মন্দির চত্বরে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে নাম সংকীর্তন। এদিন বেলা বারোটা পর্যন্ত ভোগ মণ্ডপে চলবে রাধা কৃষ্ণের অভিষেক। ইতিমধ্যে ১০৮ কলস পূর্ণ তীর্থের জল নিয়ে আসা হয়েছে ।আজ সারাদিন ভোর চলবে বিশেষ পূজা পাঠ।
মন্দির কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, অন্যান্য দিন রাত ন’টায় মন্দির বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু জন্মাষ্টমীর বিশেষ পুজোতে মন্দিরে দরজা রাত বারোটা পর্যন্ত ভক্তদের জন্য খোলা থাকবে। মাঝখানে দুপুর ১টা থেকে ৩ টে পর্যন্ত প্রভু জগন্নাথ দেবের বিশ্রাম এর জন্য মন্দির বন্ধ করা হবে। আবার বিকেল ৩টের পর থেকে রাত্রি ১০ টা পর্যন্ত চলবে মঙ্গল আরতি, নাম সংকীর্তন এবং পূজা পাঠ। রাত দশটা থেকে সাড়ে এগারোটার মধ্যে শ্রীকৃষ্ণের অভিষেক পর্ব অনুষ্ঠান হবে। ১২ টা পর্যন্ত ৫৬ ভোগ নিবেদন করা হবে। তারপর ভক্তরা রাত বারোটায় দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে মহা আরতি দর্শন করতে পারবেন। ইতিমধ্যে ২ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়েছে।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন উপলক্ষ্যে রাজ্য তথা দেশ জুড়ে জন্মাষ্টমী উৎসব পালন করা হচ্ছে। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষে অষ্টম তিথিতে বিষ্ণুর অষ্টম অবতার শ্রী কৃষ্ণের জন্ম হয় ।এই দিন গোপালের তার পছন্দের ভোগ যেমন – তাদের বড়া, ক্ষীর ,মাখন , মালপোয়া ,নাড়ু, রাবড়ি নানা ধরনের মিষ্টি দিয়ে ভোগ নিবেদন করে পুজো করেন কৃষ্ণ ভক্তরা । ভগবানের প্রিয় ফুল দিয়ে সাজানো হয় এবং তার অর্পণ করা হয়।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক পেজে ছবি দিয়ে জন্মাষ্টমী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
দীঘায় জন্মাষ্টমী উপলক্ষে উপকূলীয় এলাকায় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে দিঘা- শঙ্গরপুর উন্নয়ন পর্ষদ। সকালে দীঘা জগন্নাথ ধামের পাশে থাকা নেচারপার্কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করবেন জেলা প্রশাসক পূর্ণেন্দু মাজী।

