পূজা মাজী,নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি:- জিএসটি রাজস্ব কমার আশঙ্কায় বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে রাজ্যের অর্থনীতি। অর্থ দপ্তরের সর্বশেষ হিসাব বলছে, কেন্দ্র যদি প্রস্তাবিত হারে জিএসটি শুল্ক হ্রাস করে, তবে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হবে রাজ্যের রাজস্ব আয়ে। এতে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও সামাজিক কল্যাণমূলক খাতে।
অর্থ দপ্তরের এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন— বর্তমানে রাজ্য সরকারের আয়ের বড় অংশই আসে পেট্রোল, ডিজেল, মদ, বিদ্যুৎ ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য দ্রব্যের উপর পরোক্ষ কর থেকে। কেন্দ্রীয় স্তরে জিএসটি হার কমানো হলে সেই আয় ব্যাপকভাবে কমে যাবে। ফলে রাজ্যের হাতে খরচ করার অর্থ থাকবে অনেক কম।
তিনি আরও বলেন, “জিএসটি কমালে সাময়িকভাবে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেলেও রাজ্যের আর্থিক কাঠামোয় ধাক্কা লাগবে। রাজস্ব কমে গেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষি সহায়তার মতো খাতে বরাদ্দ কেটে দিতে হতে পারে।”
রাজ্যের অভিযোগ, কেন্দ্র জিএসটি ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ায় ইতিমধ্যেই দেরি করছে। নতুন করে কর কমানো হলে রাজস্ব ঘাটতি আরও বাড়বে। অর্থনীতিবিদরাও মনে করছেন— কর কমলে বাজারে সাময়িক চাঙ্গাভাব এলেও দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যগুলোর আর্থিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবে।
বিরোধীরা অবশ্য দাবি তুলেছে, রাজ্য সরকার অজুহাত দিচ্ছে। তাদের বক্তব্য— “জনগণের স্বার্থে যদি কর কমানো হয়, তবে তার বিরোধিতা কেন? সরকার যদি সঠিকভাবে রাজস্ব ব্যবহার করত, তবে ক্ষতির অজুহাত দেখানোর দরকার পড়ত না।”
এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্র ও রাজ্য মিলিতভাবে কী সমাধান খুঁজে বের করে। কারণ, ১০ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য ক্ষতি রাজ্যের অর্থনৈতিক কাঠামোর উপর যথেষ্ট চাপ ফেলতে চলেছে।

