পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল আজ সকালে। সময় ঠিক সকাল ১০টা ১০ মিনিট। স্থান – ঐতিহাসিক রাষ্ট্রপতি ভবন। রাজ্যের রাজনীতির মঞ্চ থেকে শুরু করে দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক মহল, সকলের চোখ তখন রাষ্ট্রপতি ভবনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিকে। সেই মুহূর্তে রাষ্ট্রপতির সামনে দাঁড়িয়ে দেশের ১৫তম উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন এনডিএ প্রার্থী সিপি রাধাকৃষ্ণন। শপথবাক্য পাঠ করালেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
রাষ্ট্রপতি ভবন এদিন যেন সাজানো হয়েছে এক উৎসবের মেজাজে। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও দিল্লির বিশিষ্ট নেতারা। সেই জমকালো উপস্থিতিতে রাধাকৃষ্ণনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান যেন আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার পুরনো সংসদের সংবিধান ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন। দুই কক্ষের সাংসদদের গোপন ব্যালটে ভোটে নির্ধারিত হয় দেশের নতুন উপরাষ্ট্রপতি। এনডিএ-র পক্ষ থেকে মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এককালের সঙ্ঘ প্রচারক সিপি রাধাকৃষ্ণন। তাঁর বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটের পক্ষে ছিলেন বি সুদর্শন রেড্ডি।
ফলাফল আসে দিনশেষে- রাধাকৃষ্ণন জয়ী হন ১৫২ ভোটের বিশাল ব্যবধানে। রাধাকৃষ্ণন পেয়েছেন মোট ৪৫২টি ভোট, সুদর্শন রেড্ডি পেয়েছেন ৩০০টি। এই সংখ্যাতত্ত্ব ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইন্ডিয়া জোটের অন্দর থেকেই হয়েছে ‘ক্রস ভোটিং’। এই ঘটনাই প্রশ্ন তুলেছে জোটের ঐক্য ও শক্তি নিয়ে।
তবে শুধু ভোটের ফল নয়, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও ছিল একাধিক নজরকাড়া মুহূর্ত। শপথ নেওয়ার সময়ে ক্যামেরায় ধরা পড়ে এক বিশেষ দৃশ্য- সাবেক উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়, যিনি বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই পদত্যাগ করেছিলেন, তাঁকে দেখা যায় দূরে বসে থাকতে, নায়ডুদের সঙ্গে। পরবর্তীকালে এই প্রথমবার তাঁকে জনসমক্ষে দেখা গেল। তাঁর সেই নির্লিপ্ত উপস্থিতিও যেন অনেক ইঙ্গিত রেখে গেল রাজনৈতিক মহলের জন্য।

