নিজস্ব সংবাদদাতা, আর এন বিঃ গ্ৰামীণ হাওড়া জেলার আমতা ১ নং পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত খড়দহ গ্ৰাম পঞ্চায়েতের সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্বস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খড়দহ মাদার টেরেসা এডুকেশন্যাল সেন্টার ২১ তম বর্ষে পদার্পণের শুভ মুহূর্তে ২০তম বর্ষপূর্তি উৎসব ২০২৬ দুই দিন ব্যাপী নানান স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক শিবির,শিক্ষা সংক্রান্ত আলোচনাচক্র,কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, প্রাক্তনীদের সম্মেলনী, ধর্ম গ্ৰন্থ পাঠ,স্মারক পত্রিকা প্রকাশ, রক্তদান শিবির ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালন করল। এই প্রতিষ্ঠান প্রসঙ্গে সুপ্রীয় সুদীপ ব্যানার্জী বলেন , ” জীবন পথে চলতে হলে এবং সেখানে প্রতিষ্ঠা অর্জন করতে হলে অবশ্যই প্রয়োজন ‘শিক্ষা ‘ । শিক্ষক শিক্ষাদান করে অবশ্যই কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ছাত্র -ছাত্রী যদি শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা সঠিকভাবে গ্ৰহণ না করে, তাহলে সেই শিক্ষা অশিক্ষায় পরিণত হয়।তাই শিক্ষক যেখানে সমাজকে উদ্ধার করে, সমাজকে গঠন করে, সমাজকে তৈরি করে।তাই এককথায় বলতে গেলে ভবিষ্যতের নতুন প্রজন্ম যদি কান্ডারী হয় তাহলে সেই কান্ডারীর পথপ্রদর্শক হলেন শিক্ষক।শিক্ষার অভাবে, বোঝার অভাবে বর্তমানে বহুলাংশে মন অবুঝ হয়ে যায়,ফলে সমাজে নেমে আসে কুশিক্ষা বা কুসংস্কারের প্রকাশ। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ যেহেতু আর্থিক ধারানুসারে নিম্ন মধ্যবিত্ত পর্যায়ে অবস্থান করেন, সেহেতু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা তাদের সংসারের আর্থিক উন্নতির জন্য ছোট সন্তানদের পাঠিয়ে দেন কাজে।শ্রমের বিনিময়ে অর্থের উপার্জন একসময় না একসময় তো করতেই হবে, তার জন্য এত পড়ার কি প্রয়োজন? এই ভাবধারার উপর নির্ভর করে অনেক অভিভাবক – অভিভাবিকারা।পড়ার ইচ্ছা থাকলেও অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা মধ্য পথেই সমাপন হয়। আবার প্রকৃত শিক্ষা পাওয়ার জন্য যে সঠিক পথনির্ণয়কের প্রয়োজন হয়,তা সঠিক সময়ে না পাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হয়ে যায় এবং ভবিষ্যতে রুজির জায়গাটি তাদের জীবনে একটি বড় জিজ্ঞাসা চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। এই সমস্ত শিক্ষার্থীদের অবস্থার কথা মাথায় রেখে খড়দহ – র তন্ময় কুমার বাগ কুড়ি বছর আগে নির্মাণ করেন মাদার টেরেসা এডুকেশন্যাল সেন্টার। এখানে তাঁর এই উদ্যোগ সত্যিই এক অভিনবত্বের প্রকাশ।সমাজ সংস্কারক হিসাবে শুধুমাত্র ভুল আর দোষের দিকে আঙ্গুল তুললেই তো হয় না, সেই ভুল বা দোষ কিভাবে মোচন করা হবে, তার দিকে ও ভাবতে হয়।অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষক – শিক্ষিকাদের সাথে আলাপ – আলোচনার মাধ্যমে তন্ময় কুমার বাগ এই প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার তম্ময় কুমার বাগ বলেন,” এই প্রতিষ্ঠানে ছাত্র -ছাত্রীদের সামান্য বেতনের মাধ্যমে পড়ানো হয়।এক ছাদের তলায় পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র -ছাত্রীদের বিশেষভাবে তাদের বিষয়গুলো শিক্ষক – শিক্ষিকাদের সামনে কথোপকথনের মাধ্যমে সমাধানের জায়গায় পৌঁছাতে পারে। এই প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেকটি ছাত্র -ছাত্রীদের বিশেষ নজর দিয়ে পড়ানো হয়। আর্থিক সঙ্গতিবিহীন ছাত্র -ছাত্রীদের বিনা পয়সায় পড়ানোর ব্যবস্থা আছে ” । মাদার টেরেসা এডুকেশন্যাল সেন্টার এ বিশ্বজননী মাদার টেরেসা – র আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করেন বেলাড়ী রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামী প্রকাশানন্দ মহারাজ। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উদং হাই স্কুল এর প্রাক্তন শিক্ষক প্রশান্ত ভৌমিক। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষারত্ন পুরষ্কার প্রাপ্ত শিক্ষক অরুণ পাত্র,সোনামুই ফতেসিং নাহার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দয়াময় ভট্টাচার্য, ফুটবলার দিব্যেন্দু বিশ্বাস, ফুটবল জাগলার উত্তম দাস সহ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ। মাঙ্গলিক শঙ্খধ্বনি সহযোগে মাঙ্গলিক প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন শ্রীমৎ স্বামী প্রকাশানন্দ মহারাজ। ভারতবর্ষের তিনটি ধর্মগ্ৰন্থ শ্রীমৎ ভাগবৎ গীতা,কোরান, বাইবেল থেকে অংশবিশেষ পাঠ করেন যথাক্রমে অম্বরীশ চক্রবর্তী,সোরাবুল ইসলাম,প্রশান্ত ভৌমিক। এডুকেশন্যাল সেন্টার এর মুখপত্র ‘ বহ্নিশিখা ‘ – র দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশ করেন ফুটবলার দিব্যেন্দু বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে ফুটবল জাগলিং প্রদর্শন করেন ফুটবল জাগলার উত্তম দাস। রক্তদান জীবন দান কর্মসূচিতে হাওড়া জেনারেল হাসপাতাল এর চিকিৎসকবৃন্দদের সহযোগিতায় ২০ জন মহিলা সহ ৬০ জন রক্তদান করেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার জনশিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় রুরাল মেডিক্যাল প্রাকটিশনার্স এ্যাসোসিয়েশন এর তত্ত্বাবধানে গ্ৰামীণ চিকিৎসক বিপ্লব মল্লিক এর পরিচালনায় মরণোত্তর চক্ষুদান ও দেহদান ও অঙ্গদান বিষয়ক আলোচনা, সম্মতি প্রকাশ ফর্ম ফিলাপ অনুষ্ঠান এ ১০০ জন সম্মতি পত্র পূরণ করেন সাবিত্রীদেবী মেমোরিয়াল সেবাসদন এর সহযোগিতায় ‘ আলোর সন্ধানে ‘ কর্মসূচিতে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা শিবিরে ২৫০ জন চক্ষু পরীক্ষা করান।ছিল বিভিন্ন কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে এসে নিজেকে বিজ্ঞান মনস্ক তোলা – র জন্য ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি বাগনান শাখার পরিবেশনায় অলৌকিক নয় লৌকিক অনুষ্ঠান। দুই দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান ডালিতে এছাড়াও ছিল সংগীত, নৃত্য, প্রতিভা বিকাশ এ্যাওয়ার্ড,নাটক,অমর শিল্পীদের স্মরণ অনুষ্ঠান, আলোচনাচক্র, গীটার সঙ্গীত পরিবেশন,প্রতিভার সন্ধানে মেধাবী ছাত্র -ছাত্রীদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক উপহার, আবৃত্তি,হাস্যকৌতুক, গল্প বলা, সংবাদ পাঠ, ” ঘরের বৌমা বাইরে গিন্নী ” প্রতিযোগিতা। একটি কোচিং সেন্টারের এহেন অনুষ্ঠানের জন্য এই খড়দহ তথা পাশ্ববর্তী বেশ কয়েকটি গ্ৰামের মানুষ এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার তম্ময় কুমার বাগ এর ভূয়ষী প্রশংসা করেন।

