নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি : ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন উৎসবের বাজনা বাজছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিভিন্ন বাজনা নিয়ে গ্ৰামের পর গ্ৰামে উপস্থিত হচ্ছে। চৈত্রের দাবদাহ কে উপেক্ষা করে জমজমাট প্রচার শুরু করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভোট প্রার্থী, দলীয় নেতা – নেত্রী, কর্মী – সমর্থকবৃন্দ। চৈত্রের তীব্র দাবদাহ কে উপেক্ষা করেই জমজমাট প্রচারে নামলেন উলুবেড়িয়া উত্তর বিধান সভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বিমল দাস। আমতা ১ নং ব্লকের রসপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের সোমেশ্বর গ্ৰামে জাগ্ৰত সোমেশ্বর সোমনাথ (শিব) মন্দিরে পুজো দিয়ে দিনের প্রচার কর্মসূচির সূচনা করেন তিনি।এরপর দামোদর মন্দির,ব্রহ্মা মন্দির পরিদর্শন করেন।পায়ে হেঁটে বাড়ি বাড়ি ঘুরে জনসংযোগ করেন এবং পথচলতি মানুষদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের সমস্যার কথা শোনেন। প্রচার কর্মসূচিতে প্রার্থীর সঙ্গে ছিলেন হাওড়া জেলা পরিষদের সদস্যা শীলা মাখাল, আমতা ১ নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জয়শ্রী বাগ, পঞ্চায়েত সমিতির দুই কর্মাধ্যক্ষ শুভজিৎ সাহা ও তুষার কর সিনহা,ছাত্র নেতা রুহুল আমিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সোমেশ্বর গ্ৰামের পঞ্চায়েত সদস্য প্রীতম (অপূর্ব )ঝাঁঝ,রসপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান অর্জুন দলুই, সোমেশ্বর গ্ৰামের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অমিত দাস, সুকুমার হাজরা, নরেন্দ্রনাথ দেয়াশী প্রমুখ।
সকাল ১০ টায় তীব্র দাবদাহ কে উপেক্ষা করে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বিমল দাস দলীয় নেতা – নেত্রী, কর্মী – সমর্থকদের নিয়ে প্রথমে পৌঁচ্ছান সোমেশ্বর গ্ৰামের জাগ্ৰত সোমেশ্বর সোমনাথ (শিব) মন্দির প্রাঙ্গনে। সেখানে আগে থেকেই ফুল – মালা- উত্তরীয় নিয়ে উপস্থিত ছিলেন গ্ৰামের মহিলারা। প্রার্থী কে হাতে ধরে গ্ৰামে স্বাগত জানান সোমেশ্বর গ্ৰামের পঞ্চায়েত সদস্য প্রীতম (অপূর্ব)ঝাঁঝ ,অমিত দাস, সুকুমার হাজরা প্রমুখ। প্রার্থী বিমল দাস সকলের কাছে হাত জোড় করে ভোট ভিক্ষা করার পাশাপাশি পাশে থাকার আশ্বাস দেন। বিমল দাস একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, ” তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আদর্শে ও লড়াকু,প্রতিবাদী ভূমিকায় অনুপ্রাণিত হয়ে।২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ আমতা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন।২০১৮ সাল থেকে ২০২৩ হাওড়া জেলা পরিষদের সদস্য এবং ২০২৩ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত হাওড়া জেলা পরিষদের তিনটি দফতরের কর্মাধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্বে আসীন আছি। দায়িত্বের সাথে কাজ করছি। প্রশাসনটা আমার কাছে অচেনা নয়।
এবার বিধান সভা নির্বাচনে আমাদের পথপ্রদর্শক তথা রাজ্যের উন্নয়নের কান্ডারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা যুব সমাজের আইকন অভিষেক বন্দোপাধ্যায় আমাকে উলুবেড়িয়া উত্তর বিধান সভা কেন্দ্রের প্রার্থী করেছেন। আমি মানুষের পাশে থেকে, মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, হাতে হাত মিলিয়ে তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সারা রাজ্যের উন্নয়নের ধারা যাতে অব্যাহত থাকে, উন্নয়নের ধারা যাতে আরো মানুষের কাছে পৌঁচ্ছায় সেটাই আমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। উলুবেড়িয়া উত্তর বিধান সভা কেন্দ্রে যে সমস্ত স্বাধীনতা সংগ্ৰামী ছিলেন তাদের স্মৃতি উজ্জ্বল করা, তাদের কীর্তিকলাপ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে স্বাক্ষ্যবহনের জন্য উদ্যোগ গ্ৰহণ করবো। কলিকাতা গ্ৰামের ধ্বংসপ্রাপ্ত নীল কুঠি সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্ৰহণ,রডা অস্ত্র লুন্ঠনের মূল কান্ডারী রসপুর গ্ৰাম নিবাসী শ্রীশচন্দ্র (হাবু) মিত্রর জন্মভিটা উদ্ধার করে তার সংস্কার, স্মৃতি সৌধ নির্মাণ, রাস্তার নামকরণ করার উদ্যোগ গ্ৰহণ করবো।বিগত তিনটি বিধান সভা নির্বাচনের এই কেন্দ্রের যিনি বিধায়ক ছিলেন চিকিৎসক নির্মল মাজী যে ভাবে উলুবেড়িয়া উত্তর বিধান সভা কেন্দ্রের যে উন্নয়নের বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন সেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সচেষ্ট হব। হাওড়া জেলার মধ্যে সবথেকে প্রাচীন মন্দির মেলাইচন্ডী মন্দিরে একটা গেট তৈরির উদ্যোগ গ্ৰহণ, আমতা ফুটবল মাঠ স্পোর্টিং মাঠে গ্যালারি করার চেষ্টা, আমতায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এর কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা, উলুবেড়িয়া একটি হসপিটালে ৮০ বেড করার,তুলসীবেড়িয়া বাস টার্মিনাল নতুন ভাবে তৈরি, বিভিন্ন গ্ৰাম পঞ্চায়েতে অন্তর্গত মাজারের গেট নির্মাণ ও উন্নয়ন, মাদ্রাসা স্কুল তৈরি, সন্তোষনগর ইকো পার্কের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সহ পার্ক সৌন্দর্যায়ন এর আরো প্রকল্প- পরিকল্পনা গ্ৰহণ করে কাজ সহ সমগ্ৰ উলুবেড়িয়া উত্তর বিধান সভা কেন্দ্রের আরো উন্নয়নমূলক কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমতা ১ নং ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জয়শ্রী বাগ বলেন,” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের ১০ কোটি মানুষের কাছে এক আবেগের নাম। স্থানীয় প্রার্থী না থাকলে এলাকার মানুষ অনেক সুযোগ – সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। যদিও ২০১১ সাল থেকে ২০২৬ যিনি এই উলুবেড়িয়া উত্তর বিধান সভা কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন চিকিৎসক নির্মল মাজী, তিনি অনেক উন্নয়ন করেছেন এই বিধান সভায়।এবারে এই বিধান সভায় আমরা একজন ভূমিপুত্র কে প্রার্থী হিসেবে পেয়েছি। তিনি আরও বলেন, আমরা যেখানেই যাচ্ছি, মানুষের ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছি। আগের মতই উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি ও ফুল ছড়িয়ে,মালা- উত্তরীয় পরিয়ে মানুষ আমাদের প্রার্থীকে স্বাগত জানাচ্ছে ” ।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী, নেতা – নেত্রী, কর্মী – সমর্থকেরা যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই পাচ্ছেন উষ্ণ অভ্যর্থনা। জয়ের ব্যাপারে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বিমল দাস বলেন, ” রাজ্যে বিগত বিধান সভা নির্বাচন গুলিতে তৃণমূল কংগ্রেস তার আসন সংখ্যা ২০১১ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ক্রমাগত বাড়িয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকবে।গত বিধান সভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের যে আসন সংখ্যা ছিল এবারে তার থেকে বেশি হবে ” । নিজের জয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, ” উলুবেড়িয়া উত্তর বিধান সভা কেন্দ্রে বিগত সময়ের তিনবারের বিধায়ক চিকিৎসক নির্মল মাজী এই বিধান সভা কেন্দ্রে যে উন্নয়নের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন সেই নিরিখে আমি গত বিধান সভা নির্বাচনের জয়ের মার্জিন থেকে বেশি মার্জিনে জয়ী হব বলে আমি আশাবাদী। নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বিমল দাস যেমন সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প তুলে ধরছেন, ঠিক তেমনই বি জে পি – র একাধিক দূর্ণীতির অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ কে সব থেকে বঞ্চিত করে রাখার অভিযোগ তুলে ধরছেন। উল্লেখ্য এবারের নির্বাচনে সাধারণ মানুষ উলুবেড়িয়া উত্তর বিধান সভা কেন্দ্রে কাকে বিধায়ক হিসাবে চাইছেন তা জানা যাবে ৪ ঠা মে।

