নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি:ফাইনালি রাজধানীর লালকেল্লার সামনে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হল।ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে যে, ওই বিস্ফোরণের মূল অভিযুক্ত ছিলেন পুলওয়ামার বাসিন্দা ড. উমর নবী।দাঁত, হাড় ও পোশাকের টুকরোর সঙ্গে তাঁর মা শামিমা বেগম ও ভাইয়ের ডিএনএ ১০০% মিলেছে বলে জানিয়েছে ফরেনসিক বিভাগ।
তদন্তকারীদের দাবি,সোমবার সন্ধ্যায় চাঁদনী চকের ১ নম্বর মেট্রো গেটের কাছেই উমর আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটান।বিস্ফোরণের আগে তাঁকে শেষবার দেখা যায় রামলীলা ময়দানের কাছে আসাফ আলি রোডের একটি মসজিদে। সেখান থেকে বেরিয়েই তিনি সোজা সুনেহরি মসজিদের পার্কিং লটে যান।সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় বিকেল ৩.১৯ নাগাদ তিনি একটি সাদা আই-২০ গাড়ি পার্ক করছেন।
উমরের মোবাইল ফোনের ডেটা, কল রেকর্ড ও সিগন্যালও সার্চ করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। সূত্রের খবর,উমর ফরিদাবাদের একটি কলেজে ফ্যাকাল্টি মেম্বার হিসেবে কাজ করতেন।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে,তিনি শিক্ষিত ও খুব ভালো স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তাঁদের বক্তব্য,”উমর সবসময় নিজের পড়াশোনা ও পেশার প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগী ছিলেন,তাঁর এই কাজে যুক্ত থাকা আমাদের কাছে অবিশ্বাস্য।”
এদিকে,হরিয়ানার খাণ্ডওয়ালি গ্রাম থেকে উদ্ধার হয়েছে উমর নবির দ্বিতীয় গাড়ি।একটি লাল রঙের ফোর্ড ইকোস্পোর্ট।বুধবার সকাল থেকেই পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছিল, শেষমেশ একটি বাড়ির সামনে থেকে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়।
লালকেল্লার সামনে এই বিস্ফোরণকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সন্ত্রাসবাদী হামলা বলে ঘোষণা করেছে।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশ ,এই বিষয়টি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত চালাতে হবে।এনআইএ ও দিল্লি পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।
তদন্তকারীদের অনুমান,এই হামলার পেছনে কোনো বড় জঙ্গি সংগঠন জড়িত আছে। উমর নবী প্রায় দুই মাস আগে কাশ্মীরে গিয়েছিলেন বলে সূত্রের খবর, সেই সফর নিয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

