পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: রাজ্য রাজনীতিতে হঠাৎ উত্তেজনা। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল হাওড়া গ্রামীণ জেলা থেকে। শনিবার ব্লক কমিটি ও একাধিক সংগঠনিক পদে নতুন নাম ঘোষণা করল শাসক দল। আর সেই ঘোষণা হতেই রাজনৈতিক মহলে চমক ছড়িয়ে দিলেন উদয়নারায়নপুরের বিধায়ক সমীর কুমার পাঁজা। হাওড়া গ্রামীণ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান পদ থেকে তিনি আচমকাই পদত্যাগ করলেন।
এই সিদ্ধান্ত কার্যত ব্লক কমিটি ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সামনে আসে। সূত্রের খবর, দলের নতুন ব্লক কমিটি ঘোষণায় অসন্তুষ্ট ছিলেন সমীরবাবু। তবে তিনি প্রকাশ্যে কিছু না বললেও, পদত্যাগের এই আচমকা সিদ্ধান্তের পেছনে ভেতরের অস্বস্তি বা চাপের ইঙ্গিত দেখছেন অনেকেই।
দলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, হাওড়া সদর ও হাওড়া গ্রামীণ জেলার বেশ কয়েকটি ব্লকে নেতৃত্বে রদবদল হয়েছে। সেই তালিকায় কারা এলেন, কারা বাদ পড়লেন – তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা। অনেকের মতে, নতুন কমিটিতে কিছু পুরনো ও প্রভাবশালী নেতাদের গুরুত্ব কমে যাওয়া এবং ‘গোষ্ঠী রাজনীতি’-র প্রভাবই এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণ।
সমীর পাঁজার পদত্যাগের পর প্রশ্ন উঠছে- তাহলে কি দলের অন্দরে সব ঠিকঠাক নেই? ভোটের আগেই কি তৃণমূলে ভাঙন বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এল? যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনই এই ইস্যুতে মুখ খুলতে নারাজ।
দলের কর্মীদের একাংশ বলছেন, “সমীরদা অভিজ্ঞ নেতা। ওঁর সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা উচিত।” অন্যদিকে, বিরোধীরা তৃণমূলের এই ঘটনা ঘিরে নতুন করে সরকার ও দলের অন্দরমহলে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে।
এখন দেখার, এই পদত্যাগে শাসক দলের অন্দরমহলে কী প্রতিক্রিয়া আসে এবং দল সমীর পাঁজাকে ফেরায় কিনা, নাকি তিনি সত্যিই সংগঠনের সক্রিয় ভূমিকা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।
একদিকে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন ক্রমেই এগিয়ে আসছে, অন্যদিকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট বাড়ছে- এই পরিস্থিতিতে সমীর পাঁজার পদত্যাগ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে গেল।

