পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি:- বাংলা সাহিত্যের এক অমর প্রতিভা, বিদ্রোহের অগ্নিবীণা, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট আমাদের ছেড়ে চলে যান। এই দিনটি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে এক শোকাবহ দিন, কারণ আমরা হারিয়েছিলাম এমন একজন মহাপ্রাণকে, যিনি তাঁর কলম, কণ্ঠ, ও সংগ্রামের মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে মানুষকে জাগিয়ে তুলেছেন।
কাজী নজরুল ইসলাম শুধু একজন কবি ছিলেন না; তিনি ছিলেন গায়ক, সুরকার, নাট্যকার, গল্পকার এবং সাংবাদিক। তবে সর্বোপরি, তিনি ছিলেন একটি সময়ের প্রতীক—একজন বিদ্রোহী কবি, যিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তুলেছিলেন। তাঁর লেখা “বিদ্রোহী” কবিতার মাধ্যমে তিনি যেন বাঙালির মননে বিপ্লবের চেতনা জাগিয়ে দিয়েছিলেন।
নজরুলের সাহিত্যে মানবতা, সাম্য, প্রেম এবং প্রতিবাদ এক অপূর্ব সুরে মিলে গেছে। তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতির মূর্ত প্রতীক। হিন্দু-মুসলিম মিলনের স্বপ্ন তিনি লালন করেছেন নিজের সৃষ্টির প্রতিটি ছত্রে ছত্রে। তাঁর গান ও কবিতায় যেমন প্রেম ও প্রকৃতির রোমান্টিকতা আছে, তেমনি আছে নিপীড়িত মানুষের পক্ষে জেগে ওঠার আহ্বান।
১৯৪২ সালে নজরুল দুরারোগ্য অসুস্থতায় আক্রান্ত হন এবং বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন। দীর্ঘদিন নির্বাক ও অসুস্থ অবস্থায় থেকে তিনি ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার পিজি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়, যা আজও তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে আছে।
এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি সেই মহান কবিকে, যাঁর সৃষ্টি এখনও আমাদের প্রেরণা জোগায়, সাহস জোগায়। নজরুল শুধু অতীতের প্রতীক নন, তিনি আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা। তাঁর প্রয়াণ দিবসে আমরা তাঁর আদর্শ ও চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করি এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করি।
বিদ্রোহী কবির প্রতি রইল আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।

