সুইতা পাল, হাওড়া : কার্শিয়াংয়ে বন্ধুদের সাথে বেড়াতে গিয়ে বাগনানের ইঞ্জিনিয়ার পড়ুয়ার রহস্যজনক মৃত্যু। জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম সপ্তনীল চট্টোপাধ্যায়। বয়স ২২। বাগনান দেউলটির বাসিন্দা এবং দক্ষিণ কলকাতার বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ার কলেজে কম্পিউটার সায়েন্সের তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া। সোমবার ভোরে হোমস্টের সামনে রাস্তায় তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
তিন দিন আগে কলকাতা থেকে কয়েকজন বন্ধু মিলে বেড়াতে যান পাহাড়ে। এবং সপ্তনীল ছাড়া বাকি পাঁচজন যাদবপুরের সোশিয়োলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের পড়ুয়া। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই ছয় বন্ধুদের মধ্যে একজনের বাড়ি জলপাইগুড়িতে তারা প্রথমে সেই বাড়িতে গিয়েই ওঠেন। সেখানে দু’দিন কাটিয়ে দু’দিন আগেই কার্শিয়াং এর ডাইহিলে যান। থাকছিলেন হোমস্টেতে।
সোমবার ভোরে সপ্তনীলের বাড়িতে তার বন্ধুরা ফোন করে জানায় অবিলম্বে যেন তার বাবা- মা কার্শিয়াং এ চলে আসেন। ভিডিও কলে তাকে এক ঝলক দেখায় ও। ঠিক কি কারণে মৃত্যু সে বিষয়ে বুঝে উঠতে পারছেন না সপ্তনীলের পরিবাররা। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে গোটা পরিবার শোকস্তব্ধ। সেখানে যাওয়ার পর সেখানকার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করবে ওই মৃত ছাত্রের পরিবার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে পাঁচ বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বেড়াতে আসেন সপ্তনীল। তাঁরা কার্শিয়াং এর ডাউহিলে রোডের একটি হোমস্টেতে ওঠেন। দলের ছ’ জনের মধ্যে চারজন মহিলা ছিলেন।
এদিন ভোর পাঁচটা নাগাদ স্বপ্তনীল সূর্যোদয় দেখতে হোম স্টে-র ছাদে ওঠেন । সেখান থেকেই নীচে পড়ে যান তিনি । ভারী কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ পেয়ে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। তারা দেখেন হোমস্টের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন ওই যুবক।খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও কার্শিয়াং হাসপাতালে । হোম স্টে কর্তৃপক্ষ ও বন্ধুরা মিলে স্বপ্তনীলকে প্রথমে কার্শিয়াং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায় । সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন ।
এরপর পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায় । মৃতের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে পুলিশ । ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ৷সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করে দেখা হচ্ছে। মৃতের বন্ধু ও অন্যান্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ৷ তারা সঙ্গে থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের অঘটন কিভাবে ঘটল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মৃত ছাত্রের মা।

