পায়েল পাখিরা,নিজস্ব সংবাদদাতা,কলকাতাঃ- দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের স্নাতকোত্তর (এমএ) পাঠ্যক্রম থেকে ‘পাকিস্তান’, ‘চিন’, ‘ইসলাম’, ও ‘রাজনৈতিক সহিংসতা’ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি অধ্যায় বাদ পড়তে পারে—এমন একটি খসড়া সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সংশ্লিষ্ট পাঠ্যসূচিতে থাকা ‘পাকিস্তান ও বিশ্ব’, ‘সমসাময়িক বিশ্বে চিনের ভূমিকা’, ‘ইসলাম ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক’, ‘পাকিস্তান: রাষ্ট্র ও সমাজ’ এবং ‘ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ ও রাজনৈতিক সহিংসতা’ — এই বিষয়গুলিকে পাঠ্যক্রম থেকে ছেঁটে ফেলার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যোগেশ সিং সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন, ২২ এপ্রিলের পহেলগাঁও হামলার পর বিভিন্ন বিভাগকে পাকিস্তান সম্পর্কিত অপ্রাসঙ্গিক ও অযথা প্রশংসামূলক বিষয়বস্তু পাঠ্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, ‘‘দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কিছু পড়ানো হবে না যা পাকিস্তানকে অকারণে মহান করে তোলে।’’
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ফ্যাকাল্টি ও শিক্ষক সংগঠন এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করছেন। তাঁদের মতে, এমন পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বোঝার ক্ষমতাকে সীমিত করবে। স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ডঃ মনামী সিনহা এক বৈঠকে লেখেন, ‘‘ভারতের বৈদেশিক নীতির প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি পাকিস্তান—তাই সেটিকে বিশদে বিশ্লেষণ করা একান্ত প্রয়োজন।’’ পাশাপাশি, চিনকে গ্লোবাল সাউথের এক উদীয়মান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি চিন-সম্পর্কিত পাঠ্যবিষয়গুলির গুরুত্বও তুলে ধরেন।
অন্যদিকে গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফ্রন্ট (ডিটিএফ)-এর সম্পাদক আভা দেব এই পরিবর্তনকে একধরনের ‘একাডেমিক হস্তক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য মিথুরাজ ধুসিয়া স্পষ্ট করেন, পাঠ্যক্রমে পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া যেতে পারে ঠিকই, তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে তা কার্যকর করতে বাধ্য করা উচিত নয়। তাঁর মতে, বিতর্ক, আলোচনার মাধ্যমেই একটি পাঠ্যক্রম সমৃদ্ধ হয়, আর সেটাই হওয়া উচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মূল ধারা।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য—অর্থাৎ সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার চর্চা ও বহুমতের প্রতি সহনশীলতা বজায় রাখা। পাঠ্যক্রম থেকে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয় সরিয়ে দেওয়া হলে, সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন একাংশ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

