নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: আমতা শহরের প্রাণকেন্দ্র আমতা বাসস্ট্যান্ড – এ মানুষের সঙ্গে থেকে তাদের সমস্যা, অভাব – অভিযোগের কথা শোনেন উলুবেড়িয়া উত্তর বিধান সভা কেন্দ্রের নব নির্বাচিত বিধায়ক চিরণ বেরা। তিনি বলেন,যে কোনো ধর্ম শান্তি, সেবা ও মানবতার যে মহান আদর্শ মানুষের সামনে তুলে ধরে,তা সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সেই আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করেই সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করার অঙ্গীকার আর ও দৃঢ় হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিধায়ক আর ও বলেন, ধর্ম – বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও অটুট ও সুদৃঢ় হোক। এই কামনা করছেন তিনি। পাশাপাশি উলুবেড়িয়া উত্তর বিধান সভা কেন্দ্রের সার্বিক উন্নয়ন, এলাকার মানুষের সুখ – শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন। তাঁর এই সফর কে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। ‘ চায়ে পে চর্চা ‘ – র আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ” আমতার এই বাসস্ট্যান্ডে আমাদের রাজ্য কমিটির সদস্য সৃষ্টিধর মান্না চা বিক্রি করে সংসার জীবন নির্বাহ করেন। এবারের বিধান সভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পরাজিত হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু নেতা, কর্মী ওনার দোকান ভাঙচুর করে। সৃষ্টিধর মান্না আমাদের কাছে ঘটনার কথা জানিয়ে বলেন, আমতা বাসস্ট্যান্ড আমতা শহরের প্রাণকেন্দ্র। এখানে আমরা জোটবদ্ধ হয়ে জনসংযোগ করার জন্য নির্বাচন করে ” চায়ে পে চর্চা” কর্মসূচি পালন করার উদ্যোগ নিয়েছি। ওনার কথায় আমরা আমতা শহরের প্রাণকেন্দ্র আমতা বাসস্ট্যান্ডে এই কর্মসূচি পালন করছি। তিনি এ ও বলেন, আমরা হিংসার রাজনীতি চাই না। আমরা মনে করলে ঐ ঘটনার পর কিছু তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা -নেত্রী, কর্মী, সমর্থকদের বাড়িতে হামলা করতে পারতাম। আমরা তা করি নি। আমরা এলাকায় এলাকায় শান্তি, সম্প্রতি সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে চাই। আমরা রাজনীতির উদ্ধে উঠে সমস্ত মানুষের সুখে – দুঃখে পাশে থাকতে চাই। বিভিন্ন এলাকায় আমরা ‘ চায়ে পে র্চা ‘ – র মাধ্যমে জনসংযোগ আর ও নিবিড় করতে চাই। এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,’ আমতা বাসস্ট্যান্ডের পরিকাঠামো উন্নত মানের করে বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস পরিষেবা আর ও উন্নত করে পর্যাপ্ত পরিমাণে বাস চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমতা রাস্তা অল্প বর্ষায় ডুবে যায় এর মূল কারণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিক নেই। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে ড্রেন গুলো সংস্কার করা হবে। আগামী বৎসরের মধ্যে আমতা বাসস্ট্যান্ডে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হবে।আমতার যানজট নিরসনের জন্য যারা ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে অন্যত্র ব্যবসা করার ব্যবস্থা করা হবে। আগামী ৫ বছরে উলুবেড়িয়া উত্তর কেন্দ্র জুড়ে উন্নয়ন করা হবে। আমতা গ্ৰামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ এর পরিকাঠামো অত্যাধুনিক করে। চিকিৎসা পরিষেবা ও পঠন- পাঠন সহ শিক্ষার উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। স্কুল – কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নানান পরিকল্পনা গ্ৰহণ করে কাজ করবো। ফতেপুর আশ্রমের পরিবেশকে আশ্রমিক পরিবেশ করে তোলার পাশাপাশি আরও উন্নয়ন মূলক কাজ করা হবে। তিনি বলেন, আমি আমার নেতা – নেত্রী, কর্মী – সমর্থকদের বার্তা দিতে চাই আপনারা এলাকায় এলাকায় শান্তি বজায় রাখুন। সাম্প্রদায়িক হিংসায় নিজেদের জড়াবেন না। কোনো রকম উস্কানি মূলক কথা, আচরণ করবেন না।সমস্ত স্তরের মানুষের পাশে থেকে তাদের সুখ – দুঃখের সাথী হন। তাদের সমস্যার কথা শুনুন।সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হন। এই ‘ চায়ে পে র্চা ‘ আমতা – উলুবেড়িয়া উত্তরের বিভিন্ন সমস্যা লিখিত আকারে বিধায়ক কে জানিয়ে সেই লিখিত কপি বিধায়কের হাতে তুলে দেওয়া হয়।সমস্যা ও উন্নয়ন মূলক কাজ গুলো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা সব সময় আমার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আপনাদের সমস্যার কথা আমাকে সরাসরি বা আপনাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আমাকে জানাবেন আমি যথাসাধ্য আপনাদের সমস্যা গুলো সমাধানের চেষ্টা করবো। ‘ চায়ে পে র্চচা ‘ -র আয়োজনের মূল কারিগর চা বিক্রেতা তথা বি জে পি – র রাজ্য কমিটির সদস্য এবং বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের দ্বারা আক্রান্ত সৃষ্টিধর মান্না বলেন, ” আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন চা বিক্রেতা ছিলেন।আমি ও একজন চা বিক্রেতা।আমি বামফ্রন্টের আমল থেকে এই বাসস্ট্যান্ডে চা বিক্রি করছি। আমি বি জে পি দল করার জন্য ২০১১ সালে রাজ্যের ক্ষমতা পরিবর্তন হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা -নেত্রী কর্মী সমর্থকদের দ্বারা নানান অত্যাচারের শিকার হয়েছি। তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা আমার দোকান ভাঙচুর করে। আমার উপর নানান সময়ে নানান রকম ভাবে হুমকি দেওয়া হয়।তবে আমার গায়ে হাত দেওয়ার সাহস কেউ দেখায় নি।আমি কাউকেই ভয় করি না। আমি সব সময়ই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করি।অন্যায় ও অন্যায়কারীকে আমি কোনো সময় প্রশয় দিই নি , আর দেবোও না। আজকের এই জনসংযোগের মাধ্যমে আমি আমাদের দলের সৈনিকদের এই বার্তা দিতে চাই,সাহস করে বুক চিতিয়ে চল ।সবাই কে শ্রদ্ধা – সম্মান কর। আমরা তোমাদের পাশে ছিলাম – আছি – থাকবো ও।

