মিতা জানা, নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি: পশ্চিমবঙ্গের বুকেই লুকিয়ে আছে এক অপূর্ব গ্রাম, যার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য মুগ্ধ করে পর্যটকদের। ইউনেস্কো স্বীকৃত ‘সেরা পর্যটন গ্রাম’ তালিকায় নাম উঠেছে এই গ্রামের – আর সেখানেই বিরাজমান শতাব্দীপ্রাচীন রাজরাজেশ্বরী দেবীর মন্দির, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে চমকপ্রদ এক ঘটনা।
শোনা যায়, বহু বছর আগে এই রাজরাজেশ্বরী দেবীর পাথরের মূর্তি ছিল মন্দিরের প্রাণকেন্দ্র। গ্রামের রক্ষণশীল পরম্পরায় বিশ্বাস, এই দেবী তাদের রক্ষাকর্ত্রী। কিন্তু এক গভীর রাতে ঘটে যায় অবিশ্বাস্য এক কাণ্ড – মন্দির থেকে চুরি হয়ে যায় দেবীর মূর্তি! গ্রামজুড়ে নেমে আসে আতঙ্ক ও শোক। তদন্ত চলে, থানায় অভিযোগ দায়ের হয়, তবুও উদ্ধার হয়নি সেই মূল্যবান মূর্তি।
বছর কয়েক পর, এক অলৌকিক ঘটনার মধ্য দিয়ে নতুন করে আবির্ভাব ঘটে রাজরাজেশ্বরী দেবীর। গ্রামের প্রান্তে এক বৃদ্ধা মহিলার স্বপ্নে দর্শন দেন দেবী স্বয়ং, নির্দেশ দেন কোথায় পাওয়া যাবে তাঁর প্রতিমা। ঠিক সেই স্থানেই খনন করে উদ্ধার হয় এক নব-মূর্তি, আর সেটিকেই প্রতিষ্ঠা করা হয় বর্তমান মন্দিরে। গ্রামের লোকের বিশ্বাস, এটি দেবীর ইচ্ছাতেই হয়েছিল – যেন তিনি আবার ফিরে এসে আশীর্বাদ করেন তাঁর ভক্তদের।
আজও এই পুজো ঘিরে চলে বিরাট উৎসব। দূরদূরান্ত থেকে আসে মানুষ, মণ্ডপ ছাড়াও সেজে ওঠে গোটা গ্রাম। মাটির মেঠো গন্ধ, ঢাকের বাদ্য, আর রাজরাজেশ্বরীর আরতিতে তৈরি হয় এক অনন্য অনুভূতি। দেবীর মূর্তি ঘিরে চলে মহাস্নান, চন্দন দান, অন্নভোগ, আর সন্ধ্যায় আলোকসজ্জায় আলোকিত হয় গোটা মন্দির চত্বর।
এই পুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয় -এটি গ্রামের আত্মপরিচয়। শতাব্দী পেরিয়েও রাজরাজেশ্বরী দেবী মিশে রয়েছেন এখানকার মাটি, মানুষের বিশ্বাস ও সংস্কৃতিতে। আর সেই কারণেই, এখানে একবার এলে এই পুজোর অভিজ্ঞতা সারাজীবন ভুলে যাওয়া প্রায় অসম্ভব।

