পূজা মাজী,হাওড়াঃ- ২১ জুলাই রাতে রেজনগরে তৃণমূলের বুথ সভাপতি প্রতীতবাবুর উপরএক দল দুষ্কৃতী হামলা চালায়।বাঁশ, লাঠি এবং শাবল দিয়ে মারধর করা হয় তাঁকে। মর্মান্তিক অবস্থায় ভর্তি করা হয় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। গত চারদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন শুক্রবার রাতে। এরপরই পরিবার রেজিনগর থানায় ছ’জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। তার মৃত্যুর পর পরিবার লোক থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
মুর্শিদাবাদের এই খুনের তদন্তে চারদিন পর উদ্দেশ্যে সাফল্য পেল পুলিশ। বুধবার ভোরে নদিয়া জেলার নাকাশিপাড়া থেকে তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন অমিত সরকার, বিজন সরকার ও পাপ্পু সরকার তিনজনেরই বাড়ি রেজিনগরের আন্দুলবেড়িয়া উত্তর কলোনিতে। বিজন ও পাপ্পু সম্পর্কে দুই ভাই।তদন্তে নেমে পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায় এবং সেই অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে থেকে ধৃত তিনজনকে নদিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।মুর্শিদাবাদের এসডিপিও ডঃ উত্তম গড়াই জানান, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে ২০২৩ সালের একটি পুরনো বিবাদ থেকেই এই হামলার সূত্রপাত।
এই ঘটনায় মৃতের পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। তবে পরে এই ঘটনায় শাসকদলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ইঙ্গিত উঠে আসতে শুরু করে।জানা যায় প্রতীতবাবু মৃত্যুর আগে ছয়জন হামলাকারীকে চিহ্নিত করেছিলেন।তাদের মধ্যেই তিনজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় প্রতীতবাবুর সঙ্গে একদল বিজেপি কর্মীর বিবাদ হয়। সেই সময় তাঁর বাবার উপরও হামলা হয়েছিল ঘটনার পর মামলা করা হয়। সেই ঘটনাটি এখনও আদালতে চলছে। অভিযোগ, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বেশ কিছুদিন ধরেই হুমকি পেয়ে আসছিলেন প্রতীতবাবু। সেই মামলাকে ‘শান্ত’ করার জন্যেই অভিযুক্তরা পরে তৃণমূলে যোগ দেয়। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি নিজে হাতে তাদের পতাকা তুলে দিয়েছিলেন বিজেপি এই অভিযোগ করেন।
এই ঘটনায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন না শাসকদল। বহরমপুরে বিজেপির সম্পাদক লাল্টু দাস বলেন, শুরুতে দোষ বিজেপির ওপর চাপানোর চেষ্টা হয়েছিল। অথচ এখন প্রমাণ হচ্ছে, ধৃতরা তৃণমূলের নবাগত সদস্য। দলের মধ্যেকার কোন্দলই এই খুনের জন্য দায়ী।তৃণমূল বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরী অবশ্য স্পষ্ট করে জানান, অপরাধীদের কোনও রাজনৈতিক পরিচয় হয় না। যেই দোষী হোক, পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে তৃণমূল খুনিদের পক্ষে নয়।

