সায়ন্তন মণ্ডল, নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা; দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে যে মশার প্রকোপ দেখা যায়, সেই বিপজ্জনক মশার দেখা মিলল এবার খোদ শহর কলকাতার বুকে। জানা যাচ্ছে, প্রায় দশ দিন আগে শহরের নিয়োগী রোডের একটি বাড়ির ফুলের টবে দেখা মেলে ওই বিপজ্জনক মশার লার্ভার। সন্দেহ হওয়ায় সেটিকে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতা পুরসভার ভেক্টর কন্ট্রোল বিভাগের ল্যাবরেটরিতে। সেখানে ‘মশা ঘরে’ রাখা হয় নমুনাটি। পর্যায়ক্রমে লার্ভা থেকে পিউপা ও পরে প্রাপ্তবয়স্ক মশা বের হলেই তা দেখেই চমকে ওঠেন পতঙ্গবিদরা। কলকাতা পুরসভার এক পতঙ্গবিদ জানান, এটি ডেঙ্গি ছড়াতে সক্ষম এক অত্যন্ত ভয়ানক মশা। তিনি জানান, এডিস এজিপ্টাইয়ের মতোই এটি ডেঙ্গির বাহক। কিন্তু শুধু ডেঙ্গি নয়, এই মশার শরীরে থাকা ভাইরাস মানুষের রক্তে ঢুকে গেলে জিকা, চিকনগুনিয়া ও ইয়েলো ফিভারের মতো মারাত্মক রোগও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে এখনই আতঙ্কের কিছু নেই বলে জানান তিনি। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত জিকা বা পীতজ্বরের প্রকোপ দেখা যায়নি। যদিও এই মশার উপস্থিতি বাড়তে থাকলে আগামী দিনে উদ্বেগ বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।এই নিয়ে পরপর দুই বছর কলকাতায় এই বিরল প্রজাতির মশা পাওয়া গেল। পুরসভার ভেক্টর কন্ট্রোল বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, গত বছর দক্ষিণ কলকাতার কিছু এলাকায় প্রথম এই প্রজাতির খোঁজ মেলে। এবার ফের মিলে যাওয়ায় তাঁরা যথেষ্ট সতর্ক হয়ে উঠেছেন।মশা দমনে পুরসভা ইতিমধ্যেই জোরকদমে অভিযানে নেমেছে। শহরের নানা খালে নৌকা নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে মশার লার্ভা ধ্বংস করা যায়। বিশেষত জমা জল নিস্কাশনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে, সতর্ক করা হয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীদেরও

