পূজা মাজী, নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতাঃ- বিমান দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন বলেই শুক্রবার সকালেই আহমেদাবাদে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ১৭১ গুজরাটের আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পাঁচ মিনিটের মাথায় ভেঙে পড়ে এবং তারপরেই বিমানটিতে আগুন লেগে যায় । ইতিমধ্যে বিমান দুর্ঘটনায় ২৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে , নিশ্চিত করেছেন গুজরাটের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার কানন দেশাই।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বৃহস্পতিবারই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পৌঁছে যান আহমেদাবাদে । সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান শাহ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল এবং কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহন নায়ডু। আহতদের সঙ্গে দেখা করতে যান,আহমেদাবাদের আসারওয়া সিভিল হাসপাতালে। সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহ বলেন যে, ‘বিমানটিতে ১.২৫ লক্ষ লিটার জ্বালানি ছিল,যার ফলে তাপমাত্রা ছিল অত্যধিক। অমিত শাহ জানান, আমি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, কাউকেই বাঁচানোর সুযোগ পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় সব মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ১,০০০-এর বেশি পরীক্ষা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য ফরেনসিক ল্যাব একসঙ্গে কাজ করবে।
তিনি বলেন যে, ‘বিদেশে থাকা যাত্রীদের পরিবারগুলিকেও ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে, তাঁদের পরিচয় যত দ্রুত সম্ভব সংগ্রহ করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, কেন্দ্রীয় সরকারকে জানানো হয় দুর্ঘটনার ১০ মিনিটের মধ্যেই. । মুখ্যমন্ত্রী, হোম ডিপার্টমেন্ট ও বেসামরিক বিমান পরিবহণ দফতরের কন্ট্রোল রুম সক্রিয় হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী নিজে ফোন করে আমাকে ঘটনার বিষয়ে কথা বলেন।’তবে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মাত্র একজন যাত্রী বেঁচে ফিরেছেন। তিনি ৩৮ বছর বয়সি ব্রিটিশ নাগরিক রমেশ বিশ্বাসকুমার।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনি আহত রমেশ বিশ্বাসের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছেন। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্ঘটনাটি গত এক দশকের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনাগুলির মধ্যে একটি বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটে আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে যাএা শুরু করে এআই ১৭১ নম্বরের বিমানটি । সেটি ব্রিটেনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল।বিমানটি ওড়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই মেঘানিনগরে লোকালয়ে বিমানটি ভেঙে পড়ে, তারপরেই বিমানটিতে আগুন লেগে যায় বলে জানা গিয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিমানে সওয়ার ২৩২ যাত্রীর মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয়। তাছাড়া ৫৩ জন ব্রিটিশ, সাত জন পর্তুগিজ নাগরিক এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটিতে ছিলেন। কানাডার এক নাগরিকও ছিলেন। এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিমানটি মেঘানিনগরে একটি মেডিক্যাল কলেজের হস্টেল-ভবনে ভেঙে পড়েছে, এবং সেখানেই মৃত্যু হয়েছে পাঁচ জনের।

