নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: রাজ্যের একাধিক পুরসভায় একই দিনে ব্যাপক রদবদল করল তৃণমূল কংগ্রেস। সরানো হয়েছে একাধিক পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানকে। পুরপ্রধান এবং উপপুরপ্রধান পদ থেকেও সরে যেতে বলা হয়েছে অনেককে।
লোকসভা ভোটে পুর এলাকাগুলিতে তৃণমূল কংগ্রেসের ফল খারাপ হয়েছিল। কেন এমন হল,তা জানতে দলের তরফে সমীক্ষা করা হয়। সেই অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে দেখা যায় -অনেক পুরসভার নেতৃত্ব জনসংযোগে ঘাটতি রাখছেন।নাগরিক পরিষেবা দিতেও পিছিয়ে পড়েছেন অনেকেই।এই কারণেই পারফরম্যান্সে ব্যর্থদের পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল।
সেই কারণে কাটোয়ায় পুরপ্রধান সমীরকুমার সাহাকে সরিয়ে নতুন পুরপ্রধান কমলাকান্ত চক্রবর্তীকে না হয়েছে। উপপুরপ্রধান লখিন্দর মণ্ডল সরিয়ে তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেলেন ইউসুফা খাতুন।
অন্যদিকে কালনায় পুরপ্রধান আনন্দ দত্তকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রিনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।গুসকরায় উপপুরপ্রধান বেলি বেগম সরিয়ে নতুন দায়িত্বে সাধনা কোনার। তবে পুরপ্রধান কুশল মুখোপাধ্যায় বহাল রয়েছেন।দাঁইহাট,পুরপ্রধান প্রদীপ রায়কে সরিয়ে নতুন পুরপ্রধান সমর সাহা, উপপুরপ্রধান থাকছেন অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়।
এছাড়া উত্তরবঙ্গের ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি টাউন,ওল্ড মালদা, রায়গঞ্জ,মাল,কালিয়াগঞ্জ, ডালখোলা,এই সব পুরসভাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।দক্ষিণবঙ্গের একাধিক পুরসভা ও করপোরেশনেও রদবদল হয়েছে।
সূত্রের খবর,তৃণমূল নেতৃত্ব চাইছে পুরস্তরে পারফরম্যান্সভিত্তিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে। অনেককে নিজে থেকেই ইস্তফা দিতে বলা হচ্ছে, না দিলে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।দলের মতে, জনসংযোগ, নাগরিক পরিষেবা এবং সংগঠনের কাজের দক্ষতাই এখন পদে থাকার প্রধান শর্ত।
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব নীরবে এই রদবদল সম্পন্ন করতে চাইছে।তার কারণ, সামনে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে পুরো সিস্টেম টাকে আরো শক্তিশালী করাই দলের মূল লক্ষ্য।

