পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া:- গতকাল, ৯ই আগস্ট ২০২৫, শনিবার হুগলি জেলার অন্তর্গত চাপাডাঙ্গায় এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা ছিল বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক সৃজনশীল উৎসব। ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে রাখি বন্ধনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়, যা শুরুতেই এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল সাহিত্যচর্চা, বই প্রকাশ এবং বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পরিসর। চাপাডাঙ্গার শান্ত পরিবেশ একদিনের জন্য রূপ নেয় এক সাহিত্যময় মিলনক্ষেত্রে, যেখানে সমবেত হন কবি, লেখক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও সংগীতশিল্পীরা। অনুষ্ঠানে গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ করে আধ্যাত্মিক আবহ সৃষ্টি করেন প্রাক্তন শিক্ষক সিদ্ধেশ্বর নায়েক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডক্টর কাজল কান্তি দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিধায়ক ও বাংলা ভাষার এক নিরলস প্রচারক রামেন্দ্র সিংহ রায়। তাঁরা উভয়েই বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ, সাহিত্যচর্চার প্রয়োজনীয়তা এবং ভাষার উত্তরাধিকার সংরক্ষণের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে গুরুত্ব সহকারে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানটির বিশেষ মুহূর্ত ছিল দুইটি নতুন বইয়ের প্রকাশ। কবি নির্মল জানা রচিত ‘শান্তির খোঁজে’ এবং সাহিত্যিক অশোক কুমার দাস রচিত ‘গল্প ও কথার বিজ্ঞান’ এই উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে বই প্রকাশের শুভ সূচনা হয়, যা বাংলা সাহিত্যকে আরও সমৃদ্ধ করার এক প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিভাত হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সৃজনশীল মননশীলেরা—ডক্টর জয়দেব কোলে, কবি অজিত ভর, কবি স্বপন নন্দী, কবি প্রশান্ত মালিক, সাংবাদিক পূর্ণেন্দু চৌধুরী, কবি সোমা ভারতী ও সংগীতশিল্পী যূথিকা চক্রবর্তী প্রমুখ। তাঁদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে একটি প্রাঞ্জল সাহিত্য মেলায় পরিণত করে।
এই সাহিত্য উৎসব বাংলা ভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসা ও ঐক্যের বার্তা বহন করে। ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা, সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ এবং সংস্কৃতির প্রতি দায়িত্ববোধ—এই তিনের সমন্বয়ে গঠিত এই দিনটি চাপাডাঙ্গার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রইল।

