সুরোজ ছড়ি,নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতাঃ হার্ট অ্যাটাক মানেই কি শুধু কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ বা ধূমপান? চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, না। সম্প্রতি বিখ্যাত ব্যবসায়ী ও করিশ্মা কাপুরের প্রাক্তন স্বামী সঞ্জয় কাপুরের আকস্মিক মৃত্যুর পর আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে একটি নতুন কারণ — অ্যালার্জি। চিকিৎসকদের মতে, অ্যালার্জি থেকেও ঘটতে পারে হৃদরোগজনিত দুর্ঘটনা। এই বিরল কিন্তু গুরুতর পরিস্থিতির নাম ‘কাউনিস সিনড্রোম’।
কী এই কাউনিস সিনড্রোম?
‘কাউনিস সিনড্রোম’ হল এমন একটি অবস্থা, যেখানে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হৃদপিণ্ডের ধমনীতে খিঁচুনি (ভাসোস্পাজম) বা রক্তজমাট বাঁধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলেই দেখা দেয় হার্ট অ্যাটাক বা এনজাইনা।
এতে শরীর থেকে হিস্টামিন, লিউকোট্রিয়েনসহ নানা রাসায়নিক নিঃসরণ ঘটে, যা রক্তনালীগুলিকে সংকুচিত করে এবং হৃদপিণ্ডের রক্তচলাচলে বাধা সৃষ্টি করে।
কীভাবে ঘটছে বিপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌমাছির হুল, ওষুধ, নির্দিষ্ট খাবার বা ল্যাটেক্স জাতীয় উপাদানের সংস্পর্শে এলে তীব্র অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
যাদের হৃদপিণ্ডে আগে থেকেই সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই প্রতিক্রিয়া আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
কখনও ধমনীর প্রাচীরের প্লাক ফেটে গিয়ে রক্ত জমাট বাঁধে
আবার কারও ক্ষেত্রে স্টেন্ট বসানো থাকলে তাতেও রক্ত জমাট বেঁধে যায়
লক্ষণ কী কী?
এই সিনড্রোমের ক্ষেত্রে অ্যালার্জি এবং হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ একসঙ্গে দেখা যায়, যেমন:
বুকে তীব্র ব্যথা বা ভারী অনুভূতি
শ্বাসকষ্ট
ত্বকে চুলকানি বা ফুসকুড়ি
মাথা ঘোরা, রক্তচাপ হ্রাস
হৃৎপিণ্ডে ক্ষতির সূচক (ট্রোপোনিন) বৃদ্ধি
কী করবেন?
চিকিৎসকদের পরামর্শ, মৌমাছির কামড় বা অ্যালার্জির পর যদি বুকে ব্যথা শুরু হয়, অবিলম্বে চিকিৎসা নিতে হবে।
তাঁদের মতে:
অ্যালার্জি পরীক্ষা করিয়ে সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করুন
গুরুতর অ্যালার্জিতে আক্রান্তদের সঙ্গে এপিপেন ইনজেকশন রাখা উচিত
আগেভাগে সতর্কতা নিলে এই ধরনের প্রাণঘাতী পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব
উপসংহার:
কাউনিস সিনড্রোম বিরল হলেও উপেক্ষা করার মতো নয়। অ্যালার্জি থেকে হার্ট অ্যাটাক—এখন আর শুধুই সম্ভাবনা নয়, বাস্তব ঘটনা। তাই সামান্য উপসর্গেও গাফিলতি নয়, প্রয়োজন সময়মতো পদক্ষেপ।

