সুরোজ ছড়ি,নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতাঃ আমেরিকায় সর্দির আড়ালে প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়ার ছড়াই! মাত্র ৭ দিনে মৃত্যু কিশোরের।মাত্র ১৪ বছর বয়স উইলিয়াম হ্যান্ড। স্কুল পাশ করে গ্রীষ্মের ছুটিতে স্বাভাবিক সময় কাটাচ্ছিল হঠাৎ এক সকালে অসুস্থবোধ করা থেকে শুরু—মাত্র সাত দিনের মধ্যেই কিশোরের প্রাণ হারায়। চিকিৎসকদের মতে, ‘সাধারণ সর্দি’ ভেবে অবহেলা করলেই ঘটে যেতে পারে এমন মর্মান্তিক ঘটনা। উইলিয়ামের রক্তে দেখা দিয়েছিল একটি বিরল ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ—মেনিনোকোকেসেমিয়া—যা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
প্রথমে সর্দি, তারপর মৃত্যু!
উইলিয়াম হ্যান্ড হিউজেস একাডেমি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। ৮ জুন সকালে হঠাৎ ঘুম ভেঙে অসুস্থ অনুভব করে সে। দ্রুত অবস্থার অবনতি হয়। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মৃত্যু হয় কিশোরটির। সন্তানের এমন অকাল মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছেন বাবা উইল হ্যান্ড।
মেনিনোকোকেসেমিয়া কী?
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মেনিনোকোকেসেমিয়া বা মেনিনোকোকাল সেপ্টিসেমিয়া নামের এই সংক্রমণ হয় Neisseria meningitidis নামের একটি ব্যাকটেরিয়ার কারণে। এই ব্যাকটেরিয়া রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে এবং বিষাক্ত উপাদান নিঃসরণ করতে শুরু করে, যা দ্রুত শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এই সংক্রমণের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হল—প্রাথমিক উপসর্গ সাধারণ সর্দিকাশির মতোই। ফলে অনেক সময় রোগী বা পরিবার বুঝে উঠতে পারেন না বিপদের গভীরতা। চিকিৎসকেরা বলছেন, সংক্রমণ একবার ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
কীভাবে ছড়ায় এই সংক্রমণ?
এই ব্যাকটেরিয়াটি ছড়ায় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে—যেমন কাশি, হাঁচি, চুম্বন, পানীয় বা বাসন ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে। একসঙ্গে বসবাস করা, যেমন—ছাত্রাবাস বা মিলিটারি ব্যারাক, এই সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
লক্ষণগুলো কী কী?
প্রথমদিকে লক্ষণগুলো সাধারণ ঠান্ডাজ্বরের মতো:
জ্বর,গা ম্যাজম্যাজে,বমি বমি ভাব,শরীরে ব্যথা,হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া,দ্রুত হৃদস্পন্দন।
কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্লান্তি, বিরক্তি ও ত্বকে ফুসকুড়ি হতে পারে—যা চাপ দিলেও মিলিয়ে যায় না। এটি একটি বড় বিপদের ইঙ্গিত বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসা না করলে কী হয়?
যদি সময়মতো অ্যান্টিবায়োটিক না দেওয়া হয়, তাহলে রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অঙ্গ বিকল হতে শুরু করে। মৃত্যুর আশঙ্কা থেকে যায় অত্যন্ত বেশি। চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন, যে কোনও সাধারণ উপসর্গ দেখা দিলেও অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
এই রোগ থেকে রক্ষা পেতে সময়মতো মেনিনোকোকাল টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, জ্বর বা সর্দির মতো সাধারণ অসুস্থতা হলেও যদি উপসর্গ দ্রুত বাড়ে, তবে এক মুহূর্তও দেরি না করে চিকিৎসা নিতে হবে।

