পূজা মাজী, নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতাঃ- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও ইসরায়েলের টানা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পাল্টা হামলার আবহে এবার যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে। ইরানের হামলা থেকে ইসরায়েলকে রক্ষা করতে মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বাহিনী মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টে দাবি করেছেন, “আমেরিকা এখন ইরানের আকাশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে। তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে আমেরিকার সরাসরি জড়ানোর সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে।
পারমাণবিক কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের নজর রয়েছে ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর দিকেও। বিশেষ করে ‘ফোর্দো’ সমৃদ্ধকরণ প্ল্যান্টকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এই ধরনের গভীর স্থানে আঘাত হানতে প্রয়োজন ‘বাঙ্কার বিধ্বংসী’ শক্তিশালী বোমা, যা কেবল যুক্তরাষ্ট্রেরই রয়েছে। এই জিবিইউ‑৫৭ বোমা ছুঁড়তে পারে কেবল বি‑২ স্টেলথ বোমারু বিমান।বিমান মোতায়েনের প্রস্তুতি, সতর্ক পেন্টাগন। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে এই মুহূর্তে কোনও বি‑২ বিমান নেই, তবু মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে সেগুলো মিসৌরির হোয়াইটম্যান ঘাঁটি থেকে উড়ানো যেতে পারে। ইতিমধ্যে বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীকে উচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চুপিসারে আরও যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে। ঘাঁটিতে জ্বালানি সরবরাহ, আকাশসীমায় নজরদারি মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ট্যাঙ্কার বিমানের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ চলছে। ওপেন সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুসারে, আমেরিকার রিফুয়েলিং ও যুদ্ধবিমানগুলো বর্তমানে যুক্তরাজ্য, স্পেন, জার্মানি ও গ্রিসে অবস্থান করছে। তারা ইরানের আকাশে প্রবেশ না করলেও, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সাহায্য করেছে। ‘আত্মরক্ষামূলক তৎপরতা বলছে পেন্টাগন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই পরিস্থিতিকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সবরকম প্রস্তুতি নিচ্ছি।” তাঁর দাবি, মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস দ্য সালিভানস, ইউএসএস থমাস হাডনার এবং ইউএসএস আরলে বার্ক ইতিমধ্যে ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। লোহিত সাগর থেকে বাল্টিক পর্যন্ত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন। এই মুহূর্তে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজগুলো লোহিত সাগর, পশ্চিম ভূমধ্যসাগর ও বাল্টিক সাগরে অবস্থান করছে। বুধবার ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ষষ্ঠ দিনে পড়েছে। এর মধ্যেই রাতভর ইরান দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের দিকে, যার জবাবে ইসরায়েলও তেহরানের নিকটবর্তী একটি সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে। তেল আবিব শহরে বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।সংঘাত বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে পারে কিনা, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।

