নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মানুষের জন্য ধারাবাহিকভাবে জনমুখী প্রকল্প চালুর ক্ষেত্রে তাঁর সুনাম আগেই আছে। এবার তাঁর নতুন উদ্যোগ ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা পরিষেবা রাজনীতিতে যেন এক নতুন মাস্টারস্ট্রোক। এতদিন রোগীদের হাসপাতালে যেতে হত, কিন্তু এবার হাসপাতালই পৌঁছে যাবে মানুষের দরজায়। বহু মানুষের কাছে যা ছিল কল্পনার বাইরে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের দূর-দূরান্তের গ্রামীণ অঞ্চলে স্বাস্থ্যপরিসেবা পৌঁছে দেওয়া শুধু উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রকল্প শুরু হতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা গেছে উৎসাহ। তবে সঙ্গে উঠতে শুরু করেছে কিছু স্বাভাবিক প্রশ্ন-এত বড় উদ্যোগ কি যথাযথভাবে পরিচালিত হবে? নাম নথিভুক্ত করা থেকে ডাক্তার পৌঁছানো, ওষুধ সরবরাহ সবকিছু কি মসৃণভাবে চলবে? নাকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হবে নানান ‘জটলা’?
বিরোধী দলগুলি এই প্রশ্নগুলোকেই রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। তাদের অভিযোগ, “প্রকল্প যতই ভালো হোক, সঠিকভাবে চালানো না গেলে মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।” অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের এক বড় অংশের মত পরিষ্কার যদি পরিষেবা নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্যভাবে চালু থাকে, তবে এটি মমতা সরকারের রাজনৈতিক শক্তিকে আরও মজবুত করবে।
২০২৬-এর নির্বাচনের আগে তাই বার্তা স্পষ্ট উন্নয়নের রাজনীতিতেই বাজিমাত করতে চাইছে তৃণমূল সরকার। একদিকে বিরোধীদের ধারাবাহিক আক্রমণ, অন্যদিকে নানা ইস্যুতে উত্তপ্ত রাজ্য এই পরিস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা প্রকল্প নিঃসন্দেহে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

