পায়ের পাখিরা ,উদয়নারায়ণপুর ,হাওড়া :- হাওড়ার খিলা অঞ্চলে ইসকনের রথযাত্রা এক গৌরবময় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর এই উৎসবের মূল আকর্ষণ হল রায়ভাগিনি থেকে খিলা পর্যন্ত রথযাত্রা, যেখানে হাজার হাজার ভক্ত অংশগ্রহণ করেন। ২০২৫ সালের রথযাত্রায় বিধায়ক সমীর কুমার পাঁজার উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করে তোলে। তবে এই ধর্মীয় উৎসব শুধু আধ্যাত্মিকতায় সীমাবদ্ধ নয়—এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে এক উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক পরিবর্তন, বিশেষ করে খিলা অঞ্চলের জন্য।
রথযাত্রার সময় খিলা রীতিমতো উৎসবের শহরে পরিণত হয়। রথ খিলায় পৌঁছানোর পর যে কয়েকদিন সেখানে থাকে, সেই সময়টুকু এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যে অসাধারণতা দেখা যায়। স্থানীয় দোকান, খাবারের স্টল, ফুল বিক্রেতা, খেলার সামগ্রীর বিক্রেতা, এমনকি ক্ষুদ্র হস্তশিল্পীরা পর্যন্ত উপকৃত হন। ভক্তদের ভিড়ের কারণে অস্থায়ী দোকানপাট গড়ে ওঠে, যার ফলে স্থানীয় যুবক ও নারী শ্রমিকদের জন্য সাময়িক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।
একই সঙ্গে, পর্যটন ও পরিবহন খাতেও আশানুরূপ অর্থনৈতিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়। রায়ভাগিনি থেকে খিলা পর্যন্ত যাতায়াতে অটো, টোটো, রেন্টাল গাড়ি ইত্যাদির চাহিদা বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় চালকদের উপার্জন বৃদ্ধি পায়, যেটি উৎসবকালীন সময়ে একটি বড় সহায়ক দিক হয়ে ওঠে। অনেক ভক্ত আশেপাশের জেলা ও রাজ্য থেকে এসে খিলায় রাত্রিবাস করেন, যার ফলে ঘরভাড়া, লজিং সার্ভিস এবং হোমস্টের ব্যবসাও জমে ওঠে।
উৎসব চলাকালীন ইসকন ও স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্বাস্থ্য শিবির, নিরাপত্তা বাহিনী, ও পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নেওয়া হয়—যা সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার যৌথ খরচে চলে। ফলে কিছু সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও এর ফলে একটি টেকসই সমাজ-অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে ওঠে।
অর্থনৈতিক প্রভাব কেবল ক্ষণস্থায়ী নয়; অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জন্য এটি বছরের সবচেয়ে বড় আয়-উৎস হিসেবে কাজ করে। তদ্ব্যতীত, উৎসবের ব্র্যান্ডিং, সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার, ও স্থানীয় শিল্প-সংস্কৃতির প্রচারে রথযাত্রা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা ভবিষ্যতে পর্যটনের দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনাকে জাগ্রত করে।
সবশেষে বলা যায়, হাওড়ার খিলায় ইসকনের রথযাত্রা কেবল ধর্মীয় আনন্দ নয়, এটি স্থানীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিধায়ক সমীর কুমার পাঁজার মতো জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি প্রশাসনিক সহায়তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এর প্রভাবকে আরও বিস্তৃত করতে সাহায্য করে। এইভাবেই রথযাত্রা একদিকে যেমন মানুষের হৃদয়ে আধ্যাত্মিকতা জাগায়, তেমনি অন্যদিকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

