পূজা মাজী, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে প্রকাশিত ‘দাগি’ বা ‘অযোগ্য’ ১,৮০৬ জন প্রার্থীর মধ্যে যারা নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে চেয়েছিলেন, তাদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, “বেশি দিন আগে না এসে এখন কেন আদালতে এসেছেন? যথেষ্ট হলো, এখানে এসে বিষয় ছত্রছায়া করবেন না” ।
আবেদনকারীদের পক্ষ: আইনজীবী অনিন্দ্য লাহিড়ী যুক্তি দেন, ওএমআর শিটে মিল না হওয়ার কারণে তাদের ‘দাগি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, কিন্তু আসলেই তারা বিচার্য ওই তিনটি ক্যাটেগরিতে পড়ে না। যেমন: এক, মেয়াদ উত্তীর্ণ প্যানেল থেকে নিয়োগ; দুই, প্যানেলের বাইরে নিয়োগ; তিন, খালি ওএমআর শিট জমা। তারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, তাই তাদের ‘অযোগ্য’ বলা যায় না” ।
আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, “ ওএমআর-এ মিল না থাকা হল অন্যতম বড় ‘দাগি’—এ ধরনের প্রতারণা ছাড়া নিম্নমাত্রায় নিয়োগ পাননি” । আদালতের দৃঢ় অবস্থান: হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন—এখন আর তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললে তা সুবিচারের ভাবনা ধ্বংস করবে। “ সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি বিবেচনা করছে—এই পর্যায়ে এইচসি-র হস্তক্ষেপ ঠিক হবে না” বলে জানানো হয় ।
ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে—২০১৬–এর নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোটাই বাতিল এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ এর মধ্যে এসএসসি-এর যুক্তি: “দাগি প্রার্থীদের আবারও বার করা হল—এ কি দ্বিগুণ শাস্তি না?”, এমন দাবিও উঠেছে, যদিও হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টা স্পষ্টভাবে প্রাধান্য দিয়েছে: ‘শিক্ষাগত স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচার’ নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ।

