পায়েল পাখিরা, সংবাদদাতা,আর এন বি:- দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে আবারও চালু হল বাগডোগরা থেকে গ্যাংটক পর্যন্ত জনপ্রিয় হেলিকপ্টার পরিষেবা। রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই পরিষেবা সোমবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে সেটি দিতে হবে) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। পর্যটক এবং স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় স্বভাবতই খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে সিকিম ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে যাতায়াতকারীদের মধ্যে।
হেলিকপ্টার পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে সিকিমের রাজধানী গ্যাংটকে পৌঁছনো এখন অনেকটাই সহজ এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠবে। যেখানে সড়কপথে প্রায় ৪-৫ ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে এই হেলিকপ্টার যাত্রায় সময় লাগবে মাত্র ২০ থেকে ২৫ মিনিট। তাছাড়া পাহাড়ি রাস্তায় ধস বা যানজটের মতো সমস্যাও এড়ানো যাবে এই পরিষেবার মাধ্যমে।
পর্যটনের মরসুমে এই পরিষেবা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাজ্য পর্যটন দপ্তরের আধিকারিকরা। তাঁদের মতে, বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামা দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের অনেকেই সরাসরি গ্যাংটকে যেতে চান, অথচ দীর্ঘ সড়কপথ তাঁদের জন্য ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে। সেখানে এই হেলিকপ্টার পরিষেবা সেই সমস্যার কার্যকরী সমাধান দিতে পারবে।
বর্তমানে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি হেলিকপ্টার চলবে, যার আসন সংখ্যা থাকবে পাঁচটি। টিকিটের মূল্য প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রীদের জন্য প্রায় ৩,৫০০ টাকা থেকে ৪,৫০০ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আগামী দিনে যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী পরিষেবার সংখ্যা ও সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে।
সিকিম সরকারের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, “আমরা চাই আরও বেশি মানুষ হেলিকপ্টার পরিষেবার সুবিধা গ্রহণ করুন। এতে যেমন যাতায়াতের সময় বাঁচবে, তেমনি সিকিমের পর্যটনও আরও বিকশিত হবে।”
সচরাচর বাগডোগরা থেকে গ্যাংটক যাতায়াতে যাঁরা সমস্যায় পড়তেন, তাঁদের জন্য এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আশার আলো। রাজ্য সরকার এবং বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলির যৌথ প্রচেষ্টায় এই পরিষেবা টেকসই ও নিয়মিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

