ডালিয়া বর, নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া: ঝাড়গ্রামে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাঁশতলা ও সরডিহা স্টেশনের মাঝে রেললাইনের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি দূরপাল্লার ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারায় তিনটি হাতি ঘটনাস্থলেই। এর মধ্যে দু’টি ছিল হস্তী শাবক এবং একটি পূর্ণ বয়স্ক।রাত প্রায় ১টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে । বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মানিকপাড়া রেঞ্জের বাঁশতলা এলাকায় একটি হাতির দল চলে এসেছিল। সেটি সরানোর চেষ্টা চলছিল। সেই সময় হাতির দলটি রেললাইনের উপর পৌঁছে যায় । রেললাইন পারাপার করার সময় চলে আসে জনশতাব্দী এক্সপ্রেস। তখন দ্রুতগামী ট্রেনের ধাক্কায় তিনটি হাতির মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরে বাকি হাতিরা কিছুক্ষণ রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। যার জেরে খড়গপুর-টাটা শাখায় ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণভাবে থমকে যায়।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চাঞ্চল্য চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়। ভোর হতেই এলাকার বহু মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেন দুর্ঘটনাস্থলে। ঘটনাস্থলে পৌঁছন বন বিভাগের আধিকারিকরা। ক্রেন ব্যবহার করে হাতির মৃতদেহগুলি সরানোর কাজ শুরু হয়। সেই সময় পুরো রেললাইন বন্ধ থাকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ ও রেলকর্মীরাও তৎপর হয়ে ওঠে।এদিকে, ঘটনাটি ঘটার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার সময় প্রশিক্ষিত হুলা পার্টি ছিল না বলেই এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল। হাতি তাড়ানোর কাজে যাঁরা বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত, সেই কর্মীদের উপস্থিতি থাকলে হয়তো প্রাণ রক্ষা করা যেত বলেই মনে করছেন অনেকে। পাশাপাশি, হাতি চলাচলের রেল করিডরে প্রয়োজনীয় সতর্কতা বা নজরদারির ঘাটতি ছিল বলেও অভিযোগ উঠছে। এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল বন ও রেল দফতরের সমন্বয় এবং রেলপথে বন্যপ্রাণ রক্ষার বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়ে।

