নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনার সাক্ষী হতে চলেছে রাজ্য। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন, জোরদার নির্বাচনী লড়াই এবং পরিবর্তনের আবহের মধ্যেই আগামীকাল কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই গোটা রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা ও উচ্ছ্বাস।রাজনৈতিক মহলের মতে, নন্দীগ্রাম থেকে শুরু হওয়া শুভেন্দুর রাজনৈতিক উত্থান এবার পৌঁছতে চলেছে রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দায়িত্বে। বিরোধী রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে গত কয়েক বছরে তিনি রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন, জনসংযোগ এবং সাংগঠনিক বিস্তারের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সেই ধারাবাহিকতার পরিণতিতেই এবার বাংলার মসনদে বসতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী— নন্দীগ্রাম, যা একসময় জমি আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, সেই রাজনৈতিক ভূমি থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর উত্থান আজ বাংলার শাসনক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। ব্রিগেডে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে সমর্থকদের কলকাতায় আসার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন জাতীয় স্তরের একাধিক শীর্ষ নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও। ফলে ব্রিগেড চত্বর কার্যত উৎসবের আবহে সাজতে শুরু করেছে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। কলকাতা পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, শাসক শিবির এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ” বলেই উল্লেখ করেছে। যদিও বিরোধী শিবিরের দাবি, বাংলার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন এবং সেই জনমতের প্রতিফলনই আগামীকালের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।শহর কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই দেখা গিয়েছে পতাকা, ব্যানার ও আলোকসজ্জা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার শিল্প, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর বিশেষ জোর দিতে পারে। পাশাপাশি গ্রামবাংলার উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা রাজনৈতিক মহলে। রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস তুঙ্গে। বহু মানুষের মতে, আগামীকাল শুধু একটি শপথ অনুষ্ঠান নয়, বরং বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে,“নন্দীগ্রাম শুধু একটি রাজনৈতিক কেন্দ্র নয়, বাংলার আবেগ ও পরিবর্তনের প্রতীক। সেই জায়গা থেকে উঠে এসে মহাকরণের দায়িত্ব গ্রহণ নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।” আগামীকালকের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন কার্যত নজর গোটা রাজ্যের। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সাক্ষী থাকতে প্রস্তুত সমগ্র বঙ্গবাসী। এখন গোটা রাজ্যের নজর ব্রিগেডের দিকে। ইতিহাসের পাতায় আরেকটি নতুন দিনের অপেক্ষায় বাংলা।

