পায়েল পাখিরা, নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া:– বাঙালির আবেগ, রসনা আর সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ইলিশ মাছ। বর্ষাকালে ইলিশ খাওয়া যেন এক ধরনের ঐতিহ্য। কিন্তু সেই ইলিশ এখন যেন স্বপ্নের খাদ্য হয়ে উঠেছে। বাজারে ইলিশ এলেও, দাম শুনে অনেকেই পিছিয়ে যাচ্ছেন। ইলিশ মাছের দাম এখন আগুন ছুঁই ছুঁই, সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
কিছুদিন আগেও যে আকারের ইলিশ পাওয়া যেত তুলনামূলক কম দামে, এখন সেই একই মাছে গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদা থাকলেও জোগান কম, তাই দাম এতটা বেড়েছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এতটা দাম বৃদ্ধির পেছনে কি শুধুই জোগানের ঘাটতি, নাকি এর পেছনে রয়েছে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটার চেষ্টা?
অনেকেই আক্ষেপ করে বলছেন, “আগে প্রতি বছর ইলিশ দিয়ে নববর্ষ বা পূজা-পার্বণের রান্না হতো। এখন কেবল দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।” ছোটবেলা থেকে যেসব স্মৃতি তৈরি হয়েছে ইলিশকে ঘিরে, সেগুলো যেন আজকাল শুধুই স্মৃতির খাতায়।
ইলিশ শুধু একটি মাছ নয়, এটি বাঙালির আত্মার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক বিশেষ অনুভূতি। অথচ এখন সেই অনুভূতিকে কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সাধারণ মধ্যবিত্তের পক্ষে এখন নিয়মিত ইলিশ খাওয়া যেন বিলাসিতা।
প্রয়োজন পড়েছে বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারির, যাতে কৃত্রিম সংকট ও দাম বৃদ্ধির অপচেষ্টা বন্ধ হয়। ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে টেকসই পরিকল্পনা নেওয়াও জরুরি। না হলে হয়তো আগামী প্রজন্মের কাছে ইলিশ শুধুই গল্পের চরিত্র হয়ে থাকবে।
বাঙালির রান্নাঘরে আবার সহজলভ্য হোক প্রিয় ইলিশ—এই হোক সবার প্রত্যাশা।

