পায়েল পাখিরা,হাওড়াঃ- আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন শহরের তাল্লাত এলাকায় ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন এক ভারতীয় নাগরিক। মাত্র এক সপ্তাহ আগে অ্যামাজনে চাকরি নিয়ে আয়ারল্যান্ডে পা রেখেছিলেন বছর ৪০-এর ওই ব্যক্তি। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে পেতে হলো বিভীষিকাময় এক অভিজ্ঞতা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, সন্ধ্যা ছ’টার সময় ওই ব্যক্তির উপর হামলা চালায় প্রায় ১৩ জনের একটি কিশোর গোষ্ঠী, যার মধ্যে একজন কিশোরীও ছিল। একজন মহিলা প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি গাড়িতে করে শাশুড়ির বাড়ি যাচ্ছিলেন, তখনই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি দেখেন, হামলাকারীরা ঘিরে ধরে নির্দয়ভাবে মারধর করছে ভারতীয় ওই ব্যক্তিকে।
অভিযোগ, হামলাকারীরা শুধু মারধর করেই থামেনি—তাঁর প্যান্ট খুলে নেয়, জুতো ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে। আহত ব্যক্তি রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকেন।
ওই প্রত্যক্ষদর্শী মহিলা নিজে এগিয়ে এসে একটি চাদর দিয়ে অর্ধনগ্ন অবস্থায় থাকা ব্যক্তিটিকে ঢেকে দেন এবং জল পান করিয়ে সাহায্য করেন। আবেগপ্রবণ হয়ে ওই মহিলা বলেন, “লোকটি লজ্জায় চোখ তুলতে পারছিল না, বারবার আমাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছিল।”
জানা গেছে, আক্রান্ত ভারতীয় ব্যক্তির পরিবার—স্ত্রী ও ১১ মাস বয়সি সন্তান—ভারতে রয়েছেন। আয়ারল্যান্ডে কর্মজীবন শুরু করার স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন তিনি।
স্থানীয় কাউন্সিলর বেবি পেরেপ্পাদান জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই ব্যক্তি এতটাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন যে কারও সঙ্গে কথা বলতেও পারছেন না।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং একটি ফৌজদারি মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ‘দ্য আইরিশ টাইমস’-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, হামলাকারীরা ভুলভাল অভিযোগ তুলে এই নৃশংসতা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আগেও একই গোষ্ঠীর হাতে ন্যক্কারজনক ঘটনার শিকার হয়েছেন একাধিক ভারতীয়।
এই ঘটনার পর আবারও সামনে এলো প্রবাসে নিরাপত্তা ও বর্ণবিদ্বেষ নিয়ে গভীর উদ্বেগের বিষয়। আয়ারল্যান্ডের সমাজকে আরও সংবেদনশীল ও বহুজাতিক সংস্কৃতির প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার বার্তাও পৌঁছে দিল এই করুণ ঘটনা।

