সুইতা পাল, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি:– প্রতি বছর ২৮শে আগস্ট পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয়, যা রাজ্যের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ১৯৯৮ সালে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এই সংগঠনের পথচলা শুরু হয়। তার লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়, শিক্ষাক্ষেত্রে সমতা আনয়ন এবং প্রান্তিক শ্রেণির কণ্ঠস্বরকে সমাজে তুলে ধরা।
এই বিশেষ দিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্রছাত্রীরা মিলিত হয় পতাকা উত্তোলন, মিছিল, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠা দিবস শুধুমাত্র উদযাপনের দিন নয়, এটি আত্মবিশ্লেষণের একটি মহৎ উপলক্ষ—ছাত্র সমাজ কীভাবে আগামী দিনের উন্নত ও মানবিক বাংলা গড়তে পারে, সেই ভাবনার দিকনির্দেশ।
এবছর প্রতিষ্ঠা দিবসে একটি নতুন বার্তা উঠে এসেছে—”নতুন প্রজন্ম, হাল ধরো আজ বাংলার দরবারে”। আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে এই ডাক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বর্তমান সমাজে পরিবর্তনের হাল ধরতে হবে তরুণ প্রজন্মকেই। তারা শুধু পাঠ্যপুস্তকে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরেরও অগ্রদূত হবে।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বিশ্বাস—ছাত্রসমাজ মানে শুধুমাত্র পরীক্ষা ও ফলাফল নয়; তারা হলো আগামীর সমাজ গড়ার কারিগর। আজকের ছাত্রই আগামীকালের নেতৃত্ব। বাংলার দরবার অর্থ শুধু রাজনৈতিক প্রশাসন নয়, বরং এটি বাংলার সংগ্রামী ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক বোধ এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক। সেই দরবারে আজ প্রয়োজন সাহসী, চিন্তাশীল ও দায়বদ্ধ তরুণ কণ্ঠের, যারা জাতপাত, ধর্ম বা সংকীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসবে।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পতাকা সেই সংগ্রামের প্রতীক, যা শিক্ষাকে হাতিয়ার করে সমাজে ন্যায় ও সমতার আলো ছড়াতে চায়। ছাত্রসমাজকে আজ শপথ নিতে হবে—আমরা কেবল রাজনীতির অংশীদার নই, আমরা বাংলার বিবেক। আমরা শুধু প্রতিবাদ করব না, গঠনমূলক ভবিষ্যতের রূপরেখা তৈরি করব।
আজকের দিনে নতুন করে সংকল্প নেওয়ার সময় এসেছে—একটি মানবিক, শিক্ষিত, যুক্তিবাদী এবং উন্নয়নমুখী বাংলার স্বপ্নপূরণে আমরা সক্রিয় ভূমিকা নেব। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সেই লক্ষ্যে সবসময় পাশে থাকবে, অনুপ্রেরণা জোগাবে, পথ দেখাবে।
জয় হোক ছাত্রশক্তির। জয় হোক আগামী দিনের বাংলার।

