নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি : শীতকাল মানেই মেলার মরশুম।আর ঠিক সেই কারণেই
নভেম্বরের শেষ থেকে ডিসেম্বরের শুরু,এই সময়টাতেই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায় বোলপুর-শান্তিনিকেতনে। সোনাঝুরির খোয়াইয়ের হাট, কোপাই নদীর পাড়, বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবন, সৃজনী শিল্পগ্রাম, প্রকৃতি ভবন, ডিয়ার পার্ক সবখানেই থাকে ব্যাপক ভিড়।কিন্তু চলতি বছরে সেই পরিচিত ছবি একেবারেই অন্যরকম।
পর্যটক কমে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে খানা জংশনে চলা রক্ষণাবেক্ষণমূলক কাজ।এর জেরে পূর্ব রেলের হাওড়া ও শিয়ালদহ ডিভিশনের একাধিক ট্রেন ২ ডিসেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাতিল করা হয়। পাশাপাশি কিছু এক্সপ্রেস ও মেল ট্রেন ঘুরপথে চালানো হচ্ছে।এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বর্ধমান-রামপুরহাট সাহেবগঞ্জ রেল লাইনে, যেখানে নিত্যযাত্রীদের পাশাপাশি চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন পর্যটকরাও।
এই ট্রেন বাতিলের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে শান্তিনিকেতনের পর্যটন-নির্ভর অর্থনীতিতে। হোটেল, লজ, রেস্তরাঁ,হস্তশিল্পের দোকান,সব ক্ষেত্রেই নেমে এসেছে আর্থিক মন্দা।
সোনাঝুরি এলাকার এক হোটেলের ম্যানেজার জানান,“প্রত্যেক বছর এই সময়ে আমাদের হোটেলে সম্পূর্ণ বুকিং থাকে।এ বারও শুরুটা ভালোই ছিল।কিন্তু একের পর এক ট্রেন বাতিল হওয়ায় পর্যটকেরা আতঙ্কিত হয়ে আগাম বুকিং বাতিল করছেন।”
তিনি আরও বলেন,শুধু শুক্রবার, শনিবার ও রবিবার মিলিয়েই ২০-২২টি ঘরের বুকিং বাতিল হয়েছে, যার ফলে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
একই সুর শোনা যাচ্ছে বোলপুরের অন্য হোটেলগুলিতেও।এক হোটেলকর্মী বলেন,“ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি ,এই তিন মাসেই আমাদের সারা বছরের মূল আয় হয়।এ বার শীত ভালো পড়ায় ভেবেছিলাম পর্যটক বাড়বে।কিন্তু যেভাবে বুকিং ক্যানসেল হচ্ছে, তাতে হোটেলের খরচই কীভাবে উঠবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।”
শুধু হোটেল ব্যবসাই নয়,পর্যটক কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে সোনাঝুরির খোয়াইয়ের হাটেও। প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম পর্যটক আসায় বিপাকে পড়েছেন হস্তশিল্পী ও স্থানীয় বিক্রেতারা। বিক্রি কমে যাওয়ায় তাঁদেরও মাথায় হাত পড়েছে।
পর্যটন মরশুমের শুরুতেই এমন পরিস্থিতিতে,বোলপুর-শান্তিনিকেতনের সামগ্রিক অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনগুলোতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী মহল।

