পূজা মাজী, নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি:- শারদোৎসবের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। দুর্গোৎসবকে ঘিরে এখন কলকাতার কুমোরটুলিতে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। এর মাঝেই নতুন করে চাপ তৈরি করেছে পুলিশের একটি নির্দেশিকা। পরিবেশ দূষণ রোধে এ বছর থেকে প্রতিমার সাজসজ্জা ও অলংকরণে থার্মোকল ব্যবহার একেবারেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে কুমোরটুলির কারিগর ও প্রতিমা শিল্পীরা হঠাৎ করেই নড়েচড়ে বসেছেন।
কুমোরটুলির বহু শিল্পী এতদিন প্রতিমার মুকুট, সিংহাসন, ব্যাকগ্রাউন্ড সাজাতে থার্মোকল ব্যবহার করতেন। খরচ কম, সহজে কাটা যায়, রং করাও সুবিধাজনক—এসব কারণে থার্মোকল বহুদিন ধরে প্রতিমা শিল্পীদের প্রথম পছন্দ ছিল। তবে এবার পুলিশ ও পুরসভার কড়া নির্দেশ, থার্মোকল নয়, চাই পরিবেশবান্ধব বিকল্প।
এই নির্দেশিকা জারি হতেই হঠাৎ বেড়ে গেছে শোলার চাহিদা। কুমোরটুলির বিভিন্ন প্রতিমা কর্মশালায় এখন শোলা শিল্পীদের ভিড়। এক শিল্পী জানালেন “থার্মোকল দিয়ে আমরা অনেক সহজে কাজ সেরে ফেলতে পারতাম। কিন্তু এখন শোলা খুঁজতে হচ্ছে। দামও বেড়ে গেছে। তবুও নিয়ম মানতে হবে। তাই সবাই শোলার দিকেই ঝুঁকছে।”
শোলা দিয়ে দেবীর মুকুট, গহনা, চন্দ্রবল্লী বা মণ্ডপসজ্জা করলে তা দেখতে ঐতিহ্যবাহী ও আভিজাত্যপূর্ণ হয়। তবে কাজের গতি তুলনামূলক ধীর আর খরচও বেশি। ফলে মাঝারি ও ছোট বাজেটের পূজা কমিটি কিছুটা সমস্যায় পড়েছে।
শোলা বিক্রেতাদের দাবি, হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে শোলার দাম অন্তত দ্বিগুণ হয়েছে। আগে যে শোলার গহনার সেট ৮০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা ১৫০০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে পূজা কমিটিগুলিকেও বাড়তি খরচের বোঝা বইতে হচ্ছে।
পুরসভা ও পুলিশের বক্তব্য, থার্মোকল ভেঙে গেলে তা নদীতে পড়ে জলদূষণ ও মাছের ক্ষতি করে। পুজোর পর প্রতিমা বিসর্জনের সময় গঙ্গার জলে থার্মোকল ভাসতে দেখা যেত। এবার সেই দৃশ্য আর দেখা যাবে না বলে আশা কর্তৃপক্ষের। তারা চাইছেন, প্রতিমা সাজ থেকে মণ্ডপসজ্জা—সবক্ষেত্রেই পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবহার হোক।
শিল্পীরা একদিকে যেমন অতিরিক্ত খরচে দুশ্চিন্তায়, তেমনি ঐতিহ্যবাহী শোলা শিল্পের পুনর্জাগরণ নিয়ে আশাবাদীও বটে। বহু বছর ধরে অবহেলিত এই শিল্প আবার গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে অনেকের বক্তব্য, “হঠাৎ করে থার্মোকল নিষিদ্ধ হওয়ায় আমরা সমস্যায় পড়েছি। আগে থেকে জানানো হলে প্রস্তুতি নিতে পারতাম।”
সব মিলিয়ে এবারের দুর্গোৎসবে প্রতিমার সাজে থার্মোকলের ঝলক আর থাকবে না, তার জায়গা নিচ্ছে সাদা শোলার ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য। কুমোরটুলি তাই এখন ব্যস্ত এক নতুন অধ্যায়ের সাক্ষী হতে।

