নিজস্ব সংবাদদাতা ,আরএনবি: কলকাতার প্রাণশিরা মেট্রো রেল পরিষেবায় এক নতুন মোড়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে এসপ্ল্যানেড-শিয়ালদহ এবং নোয়াপাড়া-বিমানবন্দর মেট্রোপথ সংযুক্ত হওয়ার পথে। যাত্রীদের কাছে এটি যেমন এক নতুন স্বস্তি ও প্রত্যাশার বার্তা, তেমনই পুরনো মেট্রোপথের জন্য তৈরি করছে নতুন মাথাব্যথা। কারণ, বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন রুট চালু হলে বাড়তি চাপ গিয়ে পড়বে মূল উত্তর-দক্ষিণ করিডরের উপর, যা এখনই প্রায় হাঁসফাঁস করছে।
কথায় বলে, বাড়িতে নতুন কেউ এলে পুরনো হয়ে যায় ‘দুয়োরানি’। তেমনই ছবি মেট্রোতেও। এসপ্ল্যানেড হয়ে নতুন করিডর চালু হলে যাত্রী চলাচলের ভারসাম্য বদলাতে শুরু করবে। তাতেই পুরনো রুট অর্থাৎ দক্ষিণেশ্বর-কল্যাণী পর্যন্ত প্রসারিত লাইন আরও ভিড় সামলাতে গিয়ে কার্যত ন্যুব্জ হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা।
ইতিমধ্যেই শিয়ালদহে নতুন স্টেশন খোলার পর যাত্রী চাপ বহুগুণ বেড়েছে। এবার সেই স্টেশন সরাসরি এসপ্ল্যানেডের সঙ্গে যুক্ত হলে অফিসযাত্রীদের ভিড় আরও বাড়বে। যাঁরা আগে বাস, ট্রাম বা ট্যাক্সির উপর নির্ভর করতেন, তাঁরা ঝুঁকবেন মেট্রোর দিকে। ফলে পিক আওয়ারে এক কামরায় শ্বাস নেওয়াও দায় হতে পারে বলে মনে করছেন নিয়মিত যাত্রীরা।
একইসঙ্গে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার পর যাত্রী সংখ্যা উত্তর দিক থেকেও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। কলকাতার মূল বিমানবন্দরে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করেন। তাঁদের বড় অংশ এবার সরাসরি মেট্রো ধরবেন। সেই চাপও গিয়ে পড়বে পুরনো নোয়াপাড়া–দক্ষিণেশ্বর–টালিগঞ্জ করিডরে।
ইতিমধ্যেই উত্তর–দক্ষিণ করিডরে গড়ে প্রতি ৭ মিনিট অন্তর ট্রেন চলাচল করছে। কিন্তু যাত্রী চাপ বাড়লে সেই ব্যবধান কমাতে হবে। এর ফলে বিদ্যুতের পরিকাঠামো, সিগন্যালিং এবং রেকের সংখ্যাও বাড়াতে হবে। না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—অতিরিক্ত চাপ সামলাতে ব্যর্থ হলে পুরনো করিডরে সার্ভিস বারবার বিঘ্নিত হতে পারে।
কলকাতা মেট্রোকে নিয়ে শহরবাসীর প্রত্যাশা বিপুল। বিমানবন্দর থেকে শহরের কেন্দ্র পর্যন্ত নির্বিঘ্ন যাত্রা, কিংবা শিয়ালদহ থেকে সরাসরি এসপ্ল্যানেডে পৌঁছে যাওয়া অনেকটাই সময় বাঁচাবে। কিন্তু সেই স্বস্তির পথেই যদি তৈরি হয় ‘অসহনীয় ভিড়’, তবে মেট্রোর প্রাপ্তি উল্টে অভিশাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রেল সূত্রের খবর, বাড়তি রেক আনার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং সিস্টেম দ্রুত চালু করার প্রস্তুতি চলছে। একইসঙ্গে ইস্ট–ওয়েস্ট করিডরের সঙ্গে ইন্টারচেঞ্জকে আরও মসৃণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যাত্রী সংগঠনের দাবি, এখনই পুরনো রুটকে শক্তিশালী করতে না পারলে শীঘ্রই বড় ধরনের সংকটে পড়তে হবে কলকাতার প্রথম মেট্রোপথকে।

