নিজস্ব সংবাদদাতা, আরএনবি: মাদার তেরেসা নামটার মধ্যেই জড়িয়ে আছে ,মায়ের স্নেহ,মায়া,মমতা ও ভালবাসা।আজ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৭ সালের আজকের দিনে মাত্র ৮৭ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আজকের দিনটি আমরা তাঁর মৃত্যুদিন হিসাবে স্মরণ করি। তিনি ১৯১০ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৩০ সালে ভারতে আসেন। তিনি গরিব, নিপীড়িত এবং মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। কলকাতায় তিনি “মিশনারিজ অফ চ্যারিটি” নামক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন এবং বহু মানুষের সেবায় নিয়োজিত হন। মানবসেবায় অবদানের জন্য তিনি পদ্মশ্রী (১৯৬২), নোবেল শান্তি পুরস্কার (১৯৭৯), এবং ভারতরত্ন (১৯৮০) সহ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর এই অসামান্য মানবিক কাজের জন্য ক্যাথলিক চার্চ তাকে ‘সেন্ট’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
মাদার তেরেসার আসল নাম ছিল অ্যাগনিস গনজে বোজাঝিউ। ১৯১০ সালে তিনি তৎকালীন অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে আলবেনিয়ার স্কোপিয়ে শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৩০ সালে তিনি ভারতে আসেন এবং লোরেটো কনভেন্টে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে, তিনি কলকাতার দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের সেবা করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৫০ সালে তিনি গরীব ও অসহায় মানুষের সেবার জন্য “মিশনারিজ অফ চ্যারিটি” নামক একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি একটি পরিত্যক্ত হিন্দু মন্দিরকে “নির্মল হৃদয়” নামে রূপান্তরিত করে গরিব ও মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের জন্য একটি আশ্রয়স্থল তৈরি করেন। তিনি অনাথ শিশুদের জন্য “শিশুভবন” এবং কুষ্ঠ রোগীদের চিকিৎসার জন্য “নির্মল হৃদয়” নামক প্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলেন।
মাদার তেরেসা তাঁর মানবসেবামূলক কাজের জন্য অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন।
১৯৬২ সালে তিনি ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী পুরস্কার ভূষিত করেন।
১৯৭৯ সালে তিনি তাঁর মানবিক কাজের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। ১৯৮০ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ভারতরত্ন প্রদান করে।
তাঁর কাজ শুধু ভারত নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল।
তাঁর জীবন ও কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ, ২০১৬ সালে ক্যাথলিক চার্চ তাঁকে ‘সেন্ট’ উপাধি প্রদান করে।
তাঁর। এই সমাজসেবামূলক কাজের জন্য তিনি অমর হয়ে আছেন প্রতিটি দেশবাসীর কাছে।

