নিজস্ব সংবাদদাতা,আরএনবি : কদিন ধরে টানা বর্ষণে ফলে ফের বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। একের পর এক নদী বইছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে। ফুঁসছে তিস্তা, তোর্সা ও বালাসন নদীর জলস্তর। সেই কারণে পাহাড়ে জারি হয়েছে সতর্কতা। এরই মধ্যে শুক্রবার সকালে কালিম্পংয়ের ২৯ মাইল এলাকায় ধস নেমে বন্ধ হয়ে যায় রাস্তা। প্রশাসনের তরফে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ চলছে।
দার্জিলিংয়ের চুংথুংয়ের মেরিবং প্রাথমিক স্কুলের ওপর অতিবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে ভেঙে পড়েছে গাছ। সৌভাগ্যবশত, স্কুলে তখন কোনও পড়ুয়া উপস্থিত ছিল না।ফলে বড়ধরনের বিপদ এড়ানো গেছে।
গত দু’দিন ধরে পাহাড়-সমতল জুড়ে চলছে অনিয়মিত বৃষ্টি। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে শুক্রবার দার্জিলিংয়ের সরস মেলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ফের মেলা বসানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, অতিবৃষ্টির পাশাপাশি সিকিমে ফের শুরু হয়েছে মৌসুমি তুষারপাত। শুক্রবার সকাল থেকে পূর্ব ও উত্তর সিকিমের ছাঙ্গু, নাথু-লা, লাচুং এলাকায় সাদা বরফে ঢেকে গেছে চারদিক। রাতভর তুষারপাতের ফলে রাস্তা ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে বরফের স্তর জমে গেছে। যার জেরে স্বাভাবিক জনজীবন ও যান চলাচল ব্যাহত হয়ে পড়েছে।
অতিরিক্ত বর্ষণের ফলে শিলিগুড়ি-মিরিক রুটে দুধিয়ায় বালাসন নদীর উপর তৈরি অস্থায়ী বেইলি ব্রিজ শুক্রবার বিকেল থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগম ওই রুটে বাস চলাচলও বন্ধ রেখেছে। নিগমের একটি গাড়ি ওপারে আটকে থাকায় আপাতত সেটি মিরিকেই রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিগমের চেয়ারম্যান পার্থ প্রতিম রায়।
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ না কাটলে স্কুল – কলেজ,অফিস – আদালত এবং যান চলাচল কিছুই স্বাভাবিক হবে না।প্রকৃতির রোষানল থেকে কারো রেহাই নেই।কবে এই দুর্যোগ কাটবে সেটাও এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না,তাই অপেক্ষা তো করতেই হবে তাই না।

