সংবাদদাতা,আর এন বি:- কলকাতা ও হাওড়ার মানুষ আবারও বর্ষার একটানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই শহরের একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। সাধারণ নাগরিকদের পক্ষে রাস্তায় চলাচল কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অফিস যাতায়াত, স্কুল, জরুরি পরিষেবা— সব কিছুই থমকে গেছে শহরের বুকজুড়ে জমে থাকা জলকাদার কারণে।
হাওড়ার বিভিন্ন এলাকা যেমন— শিবপুর, চ্যাটারজীহাট, বেলিলিয়াস রোড, সাঁতরাগাছি, — প্রতিবারের মতো এবারও জলযন্ত্রণায় নাকাল। কলকাতাতেও বেহালা, কালীঘাট, একবালপুর, তালতলা, আমহার্স্ট স্ট্রিট, মানিকতলা, কাঁকুড়গাছি সহ একাধিক অঞ্চলে কোমরসমান জল জমেছে। কিছু কিছু জায়গায় তো কয়েকদিন ধরেও জল নামছে না।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে— প্রতি বছর বর্ষা আসলেই যদি একই অবস্থা হয়, তবে এতদিনেও স্থায়ী সমাধান কেন হয়নি? রাজ্য সরকার ও পৌরসংস্থাগুলির তরফে প্রায়ই দাবি করা হয়, ‘জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি হচ্ছে’, কিন্তু বাস্তব চিত্র তার ঠিক উল্টো।
বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন— “ভোট এলেই নেতারা এসে প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু জল জমলে কারও খোঁজ মেলে না। বাচ্চাদের স্কুল পাঠাতে পারি না, বাড়ির সামনেই নোংরা জলে ডুবে থাকে রাস্তা। রোগ ছড়ানোর আশঙ্কাও বাড়ছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলনিকাশি নালা গুলির রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, যথাযথ পরিকল্পনার অভাব ও বেআইনি নির্মাণ এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। অনেক জায়গায় নালা বা ড্রেন বুজে গিয়েছে, কিংবা আবর্জনায় ভরে আছে, যার ফলে জল বেরোতে পারছে না।
অপরদিকে, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন। কোথাও ম্যানহোল খোলা নেই, কোথাও পাম্প চালু হয়নি, আবার কোথাও পুরকর্মীদের দেখা মিলছে না। এই উদাসীনতাই নাগরিকদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
শহরবাসীর একটাই দাবি— সমস্যার স্থায়ী সমাধান হোক, আর দায়িত্বজ্ঞানহীনতা বন্ধ হোক। নইলে প্রতিবছর বর্ষা মানেই এই দুর্ভোগ নতুন করে ফিরে আসবে, আর প্রশাসন নির্বিকার দর্শক হয়ে বসে থাকবে।

